Insight Desk
প্রকাশ : Feb 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মব–শাসনের রক্তাক্ত বাস্তবতা, বিষবৃক্ষের ফল কুড়াচ্ছে সমাজ

ডেস্ক রিপোর্ট

মব–শাসিত ব্যবস্থায় রক্ত, আতঙ্ক আর নীরবতা এসব কোনো দুর্ঘটনা নয় এটাই তার স্বাভাবিক ও অনিবার্য পরিণতি। গত সতেরো মাস ধরে জেনেবুঝেই এক ধরনের উগ্র, অসহনশীল ও আইনবহির্ভূত কাঠামোকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কখনো একে কৌশল বলা হয়েছে, কখনো বাস্তবতার দোহাই, আবার কখনো ‘প্রয়োজন’-এর মোড়কে সহিংসতাকে বৈধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজে সহিংসতা কখনো নিরপেক্ষ থাকে না। সে জমা হয়, বিস্তার লাভ করে এবং একসময় ভয়াবহ রূপে ফিরে আসে। আজ আমরা সেই রক্তাক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি।

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বিষবৃক্ষ’-এ লিখেছিলেন— “যে বিষবৃক্ষের বীজ মানুষ নিজ হাতে রোপণ করে, তার ফলও তাকেই কুড়াতে হয়।”

এই কথাটি কেবল সাহিত্যের অলংকার নয়; রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজের জন্য এটি এক নির্মম সতর্কবার্তা। সহিংসতাকে যখন রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হয়, ন্যায়বিচারের জায়গায় যখন শক্তির শাসন বসানো হয়, তখন সেই বিষবৃক্ষ একদিন না একদিন ফল দিতেই বাধ্য।

মর–গণপিটুনি, অজ্ঞাত লাশ, ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক আর চারপাশের গভীর নীরবতা এসব কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়। এগুলো বর্তমান ব্যবস্থার স্বাভাবিক উপসর্গ। যেখানে আইনের শাসনের জায়গা নেয় জনতার ক্ষোভ, আর বিচারের বদলে চলে তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ, সেখানে ভয়ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর শাসনব্যবস্থা। রাষ্ট্র তখন আর নাগরিককে রক্ষা করে না নাগরিকই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় শিকার।

অনেকে মনে করেন, একটি নির্বাচনই বুঝি এই অন্ধকার কাটিয়ে দেবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো নির্বাচন হলেই কি মব–শাসনের এই কাঠামোগত সংকটের অবসান ঘটবে? উত্তরটা কঠিন হলেও স্পষ্ট না। কারণ সমস্যাটা এখন আর কোনো ব্যক্তি, কোনো দল বা একটি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যাটা গোটা ব্যবস্থায়। যে কাঠামো সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলে, যে কাঠামো নীরবতাকে নিরাপত্তা বলে চালিয়ে দেয়, সেই কাঠামো অক্ষত থাকলে ফলও বদলায় না শুধু শিকার বদলায়।

ইতিহাস কারও জন্য অপেক্ষা করে না, কাউকে ছাড়ও দেয় না। সে ধীরে চলে, কিন্তু নিখুঁত হিসাব রাখে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই হিসাবের খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই—যাদের হাতে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, যাদের কণ্ঠ ছিল সবচেয়ে দুর্বল, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারাই সবচেয়ে বেশি।

আজ প্রশ্নটা তাই কে ক্ষমতায় থাকবে, তা নয়। প্রশ্নটা হলো আমরা কি মব–শাসনের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার সাহস দেখাব, নাকি তার ছায়াতেই সমাজকে আরও রক্তাক্ত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেব? কারণ বিষবৃক্ষ টিকে থাকলে ফল কুড়াতে হয় সবাইকেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেখ হাসিনার কড়া সতর্কবার্তা: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া

1

মৃত্যুদণ্ডের আসামি বাবরকে ফিরিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল বানানোর চে

2

আন্তর্জাতিক মিডিয়া: শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভ

3

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামনে

4

ইউনূসের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে প্রবাসীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

5

খাটের ওপর পড়ে ছিল ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীর মরদেহ

6

ইউনূস-লামিয়া মোর্শেদ সিন্ডিকেটে ধ্বংসের মুখে দেশের শ্রম বাজা

7

সহিংসতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ী করলেন

8

ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

9

মবের পর এবার হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিল ইউনূসের প্রেস উইং

10

বৈষম্যবিরোধী ও এনসিপির চাঁদার টাকা যাচ্ছে কোথায়, ভাগ পায় কার

11

জুলাই সনদে সই করবে না গণফোরাম ও বামপন্থি চার দল

12

জাতি হারাল ভাষা, সাহিত্য ও রবীন্দ্রচর্চার এক অমর পথিক

13

ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার বাসার ‘আগুন’ ও ‘ককটেল বিস্ফোরণ’: শিবিরি

14

ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানি: ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে টিউলিপের

15

ভারতবিদ্বেষের দামি মূল্য: দুবাই ঘুরে আসছে একই ভারতীয় চাল

16

ইতিহাস ক্ষমা করে না, ২০২৬ সালের নীলনকশার নির্বাচন, সেনাবাহিন

17

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রের

18

মানবতার নামে শহীদুল আলমের সমুদ্রযাত্রা ও নেপথ্যের বিতর্ক

19

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুট, নেপথ্যে উপদেষ্টাসহ বিএনপি

20