Insight Desk
প্রকাশ : Aug 20, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির দুর্নীতির টাকায় তাণ্ডব চালাতো জঙ্গিরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের ছিল বিএনপির শাসনামল। ওই সময় দুর্নীতি, লুটপাট আর জঙ্গি তাণ্ডব যেন হাত ধরাধরি করে চলেছিল। 

মার্কিন আদালতে ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে—বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরুর জন্য সিমেন্স কোম্পানি ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল। এর মধ্যে একাই খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বাকি টাকা ভাগ হয়ে যায় মন্ত্রী ও তাদের সাগরেদদের মধ্যে। আর এখানেই নাম আসে তৎকালীন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের। শুধু ঘুষ নেওয়া নয়—এই টাকাই নাকি তিনি ঢেলে দিয়েছিলেন জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবির হাতে!

জঙ্গিদের সঙ্গে গোপন আঁতাত

২০০৪ সালের শুরুতে বিএনপি সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জেএমবির সঙ্গে হাত মেলায়। উদ্দেশ্য একটাই—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে দমনে জঙ্গিদের ব্যবহার করা। ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন এই আঁতাতের অন্যতম প্রধান চরিত্র। তার মদদেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় একের পর এক ভয়াবহ হামলা।

আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে কেলেঙ্কারি উন্মোচন

২০০৯ সালের ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (PBS)-এর সাংবাদিক ডেভিড মন্টেরো প্রকাশ করেন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। তিনি লিখেছিলেন— “আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম, তখন দেশটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো নির্লজ্জ দুর্নীতির কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। তাদের দুর্নীতির টাকা যেমন বিদেশে পাচার হতো, তেমনি দেশে তা জঙ্গিদের অর্থায়নে ব্যবহৃত হতো।”

তার প্রতিবেদনে উঠে আসে—দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুললেও জনগণ তখন ভুগছিল অন্ধকারে। ভেঙে পড়েছিল সুপেয় পানির সরবরাহ, অচল হয়ে গিয়েছিল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। চারদিকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর সহিংসতার রাজত্ব।

রক্ত ঝরানো বাস্তবতা

এই আঁতাতের ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষী ছিলেন সাধারণ মানুষ। চোখের জলে এক মা সাংবাদিককে জানিয়েছিলেন—তার ছেলেকে শুধু আওয়ামী লীগ কর্মী হওয়ার কারণে ধরে নিয়ে যায় জেএমবি। নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করে গ্রামে ফেলে রাখা হয় তার লাশ। গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য যেন বার্তা দেওয়া হয়েছিল—“আওয়ামী লীগ করলে এর পরিণতি এমনই হবে।”

রাষ্ট্র যখন অসহায়

দুর্নীতি, দারিদ্র্য আর সন্ত্রাসে পুরো দেশ তখন ধ্বংসস্তূপে। রাজনৈতিক ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহায়তায় জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও সেই অন্ধকারে ঢুকে পড়বে। তাদের মতে, বিএনপির অতীত হলো দুর্নীতি, জঙ্গি আঁতাত আর দমননীতি। জনগণ ভুলে গেলে চলবে না যে, তাদের শাসনামলে বিদ্যুৎ, পানি, অর্থনীতি সব ভেঙে পড়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শেষ করে দিতে তারা সন্ত্রাসকে হাতিয়ার বানিয়েছিল।”

রাজনৈতিক গবেষকেরা বলছেন, মার্কিন আদালতে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু ইতিহাস নয়, ভবিষ্যতের জন্যও সতর্কবার্তা। যদি দুর্নীতি আর জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে অভিযুক্তরা আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মায়ের জানাজাতেও হাতকড়া: আওয়ামী লীগ করাই কি এখন অপরাধ?

1

আইসিটির দুই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

2

৫ আগস্টের পর জঙ্গিবাদের আস্ফালনে, ভয়-উৎকণ্ঠায় তটস্থ জনগণ

3

বিবিসি বাংলার পক্ষপাতমূলক প্রচার: শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট

4

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার হলে প্রভাব পড়বে ভারতেও: শেখ হাস

5

জামায়াত-ইউনূসের যোগসাজশে ছড়ানো হচ্ছে গুজব, লাশ গুমের মাস্টার

6

শিক্ষা কাঠামোকে নষ্ট করে দেশ ধ্বংসে মেতেছে ইউনূস গং

7

শেখ হাসিনাকে নিয়ে করা প্রতিবেদনে যেসব বিষয় লুকিয়েছে বিবিসি

8

শিল্প ডুবছে, ইউনুস ব্যস্ত আমেরিকা তুষ্টিতে

9

ঢাকার স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত: শেখ হাসিনার শোক ও সহযোগিতার আহ

10

ইউনূসের আশকারায় মবের রাজ হাসনাত, রুখবে কে?

11

জুলাই সনদে সই করবে না গণফোরাম ও বামপন্থি চার দল

12

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা: দিল্লিতে ডি.জি.এফ.আই

13

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিছক দুর্ঘটনা না কি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত

14

বাঁধনের সাবেক স্বামীর সাক্ষাৎকার ছাপতেই ‘ডিজিএফআইয়ের ফোন’, ক

15

কেনো পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র আর আইন মন্ত্রণালয় শেষ করে দিতে চা

16

নোয়াখালীতে তাজা কার্তুজসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার

17

ভোলার লালমোহন উপজেলায় যুবদলের নেতার ছেলে হলেন ছাত্রলীগের সাধ

18

ড. ইউনূস সম্পর্কে বিখ্যাত লেখক আহমদ ছফার সতর্কবার্তা

19

বাংলাদেশের চলছে নারীদের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ

20