ডেস্ক রিপোর্ট
কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। এই বক্তব্যকে অনেকেই সরাসরি নারী বিদ্বেষ, সামাজিক অপরাধ এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়—বরং জামায়াতের দীর্ঘদিনের মধ্যযুগীয়, নারীবিরোধী ও পশ্চাৎপদ মানসিকতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। যারা ঘরের বাইরে গিয়ে শ্রম দেয়, পরিবার চালায়, রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সচল রাখে—তাদের ‘পতিতা’ বলা কেবল অশালীন নয়, এটি সরাসরি মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করার শামিল।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, “এই বক্তব্য নারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে উসকে দেয়, কর্মজীবী নারীদের সামাজিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং ধর্ষণ ও সহিংসতার মানসিক বৈধতা তৈরির পথ খুলে দেয়।”
আইনবিদদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত সমান অধিকার ও মর্যাদার সরাসরি লঙ্ঘন। একজন নাগরিকের পেশাকে চরিত্রের মাপকাঠি বানানো রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই প্রতিফলন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—
👉 যে দল কর্মজীবী নারীকে ‘পতিতা’ বলে,
👉 তারা ক্ষমতায় গেলে নারীর শিক্ষা, চাকরি ও নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়াবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই বক্তব্য প্রমাণ করে তারা এখনো আধুনিক রাষ্ট্র, নারীর স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের ধারণা মেনে নিতে ব্যর্থ। বরং ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের ঘরে বন্দি রাখার রাজনৈতিক এজেন্ডাই আবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক মন্তব্য করেন, “এটা শুধু নারীদের অপমান নয়, পুরো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার ভাষ্য। এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক।”
নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্য ক্ষমা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এই ধরনের নারী অবমাননাকর রাজনীতি আর নীরবে মেনে নেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন