Insight Desk
প্রকাশ : Oct 10, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মৌলবাদের ছায়া সংস্কৃতিতে: চারুকলা থেকে গেন্ডারিয়া পর্যন্ত বাধায় পণ্ড ১৯ বছরের শরৎ উৎসব

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে মৌলবাদ ও অসহিষ্ণুতার ছায়া যেন এখন সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গভীরভাবে বিস্তার লাভ করছে। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আয়োজিত সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘শরৎ উৎসব ১৪৩২’ এ বছর পুলিশি বাধা ও প্রশাসনিক আপত্তির কারণে বাতিল হয়ে যায়।

আজ ১০ অক্টোবর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের রাতেই কর্তৃপক্ষ “অনেকের আপত্তি”র কথা উল্লেখ করে ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। পরবর্তীতে আয়োজকেরা বিকল্প স্থান হিসেবে গেন্ডারিয়ার কচিকাঁচার মেলা প্রাঙ্গণ বেছে নিলেও, সেখানেও পুলিশ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, “আমরা চারুকলায় ১৯ বছর ধরে শরৎ উৎসব আয়োজন করছি। এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রকৃতির বন্দনা। অথচ এবার ‘ছাত্রলীগ বা যুবলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠান হচ্ছে’ এমন সন্দেহে পুলিশ আমাদের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সাংস্কৃতিক দমন এবং মৌলবাদের নতুন রূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চারুকলার নিয়ম মেনে ভাড়া ও অনুমতি দুটোই নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই অনুমতি বাতিল করা হয়—এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু পক্ষ সচেতনভাবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ দখল করতে চাইছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম বলেন, “অনুষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীসহ অনেকের আপত্তি ছিল। তাই প্রশাসনিকভাবে ভেন্যু বাতিল করা হয়।” তবে কারা আপত্তি জানিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

চারুকলার এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মানজার চৌধুরীকে ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালীন গোলযোগের আশঙ্কা ছিল। এজন্যই অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
গেন্ডারিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা খবর পাই যে ছাত্রলীগ বা যুবলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠান হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফোর্স পাঠানো হয়েছে।”

ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, “গেন্ডারিয়াতে উৎসব আয়োজনের বিষয়ে কোনো পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি।”

তবে অনুষ্ঠান বন্ধ হলেও শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

মানজার চৌধুরী শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমি এই দেশের নাগরিক হয়েও মৌলিক সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এটি কেবল একটি উৎসব নয়—এটি ছিল প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও মানবতার প্রকাশ, যা আজ মৌলবাদের চাপে স্তব্ধ হয়ে গেল।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেপাল-বাংলাদেশের সহিংস আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা

1

সারজিস আলমের বিতর্কিত হুমকি: “কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব

2

সেবা নিতে হয় ঘুষ দিয়ে, মত প্রকাশেও শ্বাসরোধ

3

ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ফাঁস: গুজব-মব দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সরাতে চা

4

কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের মুক্তি ও রমজানকে ঘিরে মানবিক কর্মসূচ

5

বিবিসি বাংলার পক্ষপাতমূলক প্রচার: শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট

6

রাষ্ট্রপতি অপসারাণে জনমত তৈরির চেষ্টা, নিশ্চুপ সেনাবাহিনী

7

আফগানিস্তানের পথে হাঁটতে চায় মৌলবাদীরা, আফগান অভিজ্ঞতা কাজে

8

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে হাইজ্যাক করেছে জঙ্গিরা?

9

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মহাদুর্নীতি: পদোন্নতির না

10

কারাগারে চিকিৎসাহীনতায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: রাষ্ট্রীয় নি

11

গণভোটের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

12

মার্কিনি চালে অশান্ত দক্ষিণ এশিয়া, পরবর্তী টার্গেট দিল্লি

13

উচ্চ সুদহারে ঝুঁকিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান

14

তারাকান্দায় প্রবাসীর উদ্যোগে সড়ক মেরামতে স্বস্তি অটোচালক ও এ

15

মন্দির অপসারণ না হলে ভেঙে ফেলার হুমকি মুসল্লীদের

16

গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আমেরিকা

17

আইজিপি বাহারুল ও এসবি চিফ গোলাম রসূলের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

18

৯ম পে-স্কেল দাবিতে আন্দোলন, পুলিশের দমন নীতির তীব্র নিন্দা

19

চোট থেকে ফেরার পথে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী

20