Insight Desk
প্রকাশ : Jul 18, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোপালগঞ্জকে অশান্ত করতে এনসিসি ও ইউনূস গংয়ের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সৃষ্ট সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ডাকা ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ।

সোমবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির তরফ থেকে ফেসবুকে লাগাতার প্রচারণা চালানো হয়। বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যে নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে হামলার ইঙ্গিত দেন। বুধবার গোপালগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে পথে পথে এনসিপির নেতাকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। কোথাও সংঘর্ষ, কোথাও আবার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরকে আটকে দেন সাধারণ জনগণ। এ সময় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “পুলিশ-আর্মি যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করব।”

সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা বারবার বাড়ানো হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় দলমত নির্বিশেষে চলছে ধরপাকড়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়ে গেছে বহুগুণ।
সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। নিহত দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা ও ইমন তালুকদারের বাড়িতে বইছে শোকের ছায়া। গোপালগঞ্জের চারপাশে কান্না, আতঙ্ক আর অজানা ভবিষ্যতের শঙ্কা যেন ঘনিয়ে এসেছে।

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অনেকেই গ্রেফতার আতঙ্কে হাসপাতালে যেতে পারেননি। আবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা কিছু আহত ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে এবং খালে লাশ ফেলে দেয়—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। সংঘর্ষের পর থেকে বহু মানুষ নিখোঁজ বলে জানাচ্ছে স্থানীয়রা। পরিবার থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করছে না।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফরিদপুরে এক সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, গোপালগঞ্জকে চিরতরে মুজিববাদমুক্ত করতে আবারও মার্চ করা হবে। তিনি জানান, দলটি খুব শিগগিরই আবারও গোপালগঞ্জ সফরে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টুঙ্গিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় আবারও সহিংসতা চালানোর পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনূস গং ও এনসিপি। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ করতে সরকার ও সেনাবাহিনীকে সংঘর্ষে জড়িয়ে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা চলছে। যাতে পরবর্তীতে ‘গণঅভ্যুত্থান’ নামে পুনরায় গোপালগঞ্জে প্রবেশের পথ সুগম হয় এবং কেউ প্রতিরোধ গড়তে না পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতের নারী-বিদ্বেষ বিতর্কে ফের ‘হ্যাক’ নাটক

1

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

2

স্থানীয় ষড়যন্ত্র ও গোপন মার্কিন অভিযানের ফল ৫ আগস্ট

3

৫ মার্চ ১৯৭১: লন্ডনে পাকিস্তানের পতাকা দাহ, দেশে অসহযোগ আন্দ

4

জুলাই: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের মাস

5

যমুনার চরেও চাঁদার দাপট, টাকা না দিলে গরু-মহিষ চরানো যায় না

6

ফেনীতে গরু চুরিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, কমিটি থেকে অব্যাহতি

7

সেনাবাহিনীতে শীর্ষ পর্যায়ে পুনর্বিন্যাস: নেতৃত্ব কাঠামোয় কৌশ

8

গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আমেরিকা

9

রাষ্ট্রীয় বৈধতা পেল জঙ্গিবাদ, ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবে দেখছে

10

অনিশ্চয়তায় দুলছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট, নির্বাচনের আগে রাজনীতিত

11

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

12

যেভাবে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে কারাগারে

13

রংপুরে বরাদ্দের আগেই এনসিপির ‘শাপলা প্রতীকে’ প্রচারণা, সরকার

14

বিপদে পড়লেই আওয়ামী লীগের কথা মনে পড়ে ইউনূসের

15

শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট; নিয়ন্ত্রণে ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহচর ল

16

আইসিটির দেওয়া রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

17

ধর্ম ব্যবসা থেকে ভোট ব্যবসা, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক পতনের

18

সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের জেরে ডিবি কর্মকর্তার ওপর নৃশং

19

৭১-এর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া পাকিস্তান-আমেরিকা, সহযোহিতায় ইউনূস

20