Insight Desk
প্রকাশ : Sep 14, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ নয় আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিবির!

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম মৃত্যু হয়েছিল রংপুরের আবু সাঈদের। ফরেনসিক রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলছে—তার মৃত্যু পুলিশের গুলিতে নয়, বরং ইসলামী ছাত্রশিবির। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মাথার পেছনে রক্ত ঝরছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মকবুল হোসেন। আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে মকবুল হোসেন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় তিনি আবু সাঈদকে একবার দেখেছেন। তখন দেখতে পান, আবু সাঈদের মাথার পেছন থেকে রক্ত ঝরছে। বুকে গুলির চিহ্ন, সারা বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে।

ফরেনসিক প্রমাণ কী বলছে?

আবু সাঈদের বাবার দাবি, তার ছেলের মাথার পিছনে গুলির চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু ফরেনসিক সায়েন্স বলছে ভিন্ন কথা। রাবার বুলেট শরীর ভেদ করে না; বরং ত্বকে আঁচড়, কালো ফোলা দাগ বা রক্ত জমাট বাঁধে। আবু সাঈদের মাথার পিছনে পাওয়া আঘাত ছিল ব্লান্ট ট্রমা ইঞ্জুরি—যা ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাতের কারণে হয়। এটি কোনোভাবেই বুলেটের আঘাতে হয়নি। 

ভিডিও ফুটেজে কী ধরা পড়েছে?

ভিডিও প্রমাণে দেখা যায়, পুলিশ লাঠি দিয়ে আবু সাঈদের মাথায় আঘাত করেনি। উল্টো আবু সাঈদ-ই পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং এক পুলিশের হেলমেট ভেঙে ফেলে। আইন অনুযায়ী পুলিশ তখন গুলি চালাতে পারত, কিন্তু তারা করেনি। বরং অ-প্রাণঘাতী রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে।

চাঞ্চল্যকর টার্নিং পয়েন্ট

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কয়েকজন “সহপাঠী” পরিচয়ে আবু সাঈদকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানেই হয়তো তার মাথায় প্রাণঘাতী ব্লান্ট ট্রমা ইঞ্জুরি হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মাথায় নতুন আঘাত ধরা পড়ে, যা দ্বিতীয় দফা আঘাতের প্রমাণ বহন করছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

ঘটনার পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির নিহত আবু সাঈদকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিবির একটি “লাশের রাজনীতি” করতে চেয়েছিল—যাতে আবু সাঈদকে “শহীদ” বানিয়ে সরকার ও পুলিশকে দায়ী করা যায়। কিন্তু ফরেনসিক ও ভিডিও প্রমাণ উল্টো ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করেছে।

সব প্রমাণ মিলিয়ে এখন স্পষ্ট হচ্ছে—আবু সাঈদের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে নয়। বরং শিবিরই তাকে ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার হিসেবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রামীণ সংস্থাগুল

1

চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

2

যৌথ নোবেলে ইউনূসের একক রাজত্ব: অংশীদার তাসলিমাকে প্রতারণার জ

3

দেশের মাটিতে ফিরেও স্বস্তিতে নেই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

4

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন দেশে সংকট ডেকে আনবে

5

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা, এবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করল আরব আমি

6

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অ

7

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইস্যু: ভারতকে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের, দিল্ল

8

জুলাই আন্দোলন: গুজব, ষড়যন্ত্র আর দেশ বিক্রির কালো গল্প ফাঁস

9

জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা প্রতীক নিয়ে ইসি-কে সরোয়ার তুষা

10

৪০ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্

11

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জননেত্রী শেখ হা

12

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবী দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের

13

গণভোটের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

14

বৈষম্যবিরোধী ও এনসিপির চাঁদার টাকা যাচ্ছে কোথায়, ভাগ পায় কার

15

কিশোরগঞ্জে বিএনপির অন্তর্কোন্দল: ধানের শীষে প্রার্থীর মিছিলে

16

ইউনূসের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়েছেন তারেক, গ্যাঁড়াকলে

17

শিবির নেতাদের সরাসরি পুলিশে নিয়োগের মিশনে ইউনূস ব্রিগেড

18

খলিল-তারেকের গোপন বৈঠক: করিডোর ইস্যুর আড়ালে দেশ ধ্বংসের নীলন

19

দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারায় ইউনূস গং

20