Insight Desk
প্রকাশ : Nov 17, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আইসিটির দেওয়া রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

আমার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়গুলো এসেছে একটি সাজানো এবং ভুয়া ট্রাইব্যুনাল থেকে, যা পরিচালনা করছে এমন একটি অনির্বাচিত সরকার যার কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। এই রায়গুলো পক্ষপাতদুষ্ট, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসার ভিত্তিতে তৈরি। আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করেছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা চরমপন্থী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হচ্ছে আমাকে, বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে, রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশৃঙ্খল, সহিংস এবং সমাজবিরোধী শাসনের অধীনে যারা কষ্ট পাচ্ছেন, সেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই সাজানো নাটকের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সবাই স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন যে কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রকৃত উদ্দেশ্য কখনোই ২০২৫ সালের জুলাই এবং আগস্টের ঘটনাবলীর সঠিক অনুসন্ধান নয়। আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বলির পাঁঠা বানানোর জন্য এবং ইউনূস ও তার সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য।

তার শাসনে রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়েছে। রাস্তায় অপরাধ বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নেই এবং ন্যায়বিচার কার্যত অকার্যকর। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা হচ্ছে অথচ হামলাকারীরা শাস্তি পাচ্ছে না। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ বেড়েছে, নারীর অধিকার দমিত। প্রশাসনের ভেতরে হিজবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন ইসলামি উগ্রগোষ্ঠী দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে, অর্থনীতি থমকে গেছে এবং তিনি নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন।

এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা এবং আইএমএফসহ বিভিন্ন নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আমি ইউনূসের বিদেশি সমর্থকদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে বাংলাদেশের জনগণ তাকে ভোট দেয়নি। জনগণের ভবিষ্যৎ জনগণের হাতে। আগামী বছরের নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

আইসিটি সম্পর্কে আমার অবস্থান

আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ আমি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। গত বছরের জুলাই এবং আগস্টে যারা নিহত হয়েছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের উভয় পক্ষের মানুষসহ, তাদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। কিন্তু আমি বা কোনো রাজনৈতিক নেতা কখনো কোনো প্রতিবাদকারীকে হত্যার নির্দেশ দিইনি।

আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমার আইনজীবীদের আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যে আদালতটির নাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কোনোভাবেই নিরপেক্ষ বা স্বাধীন নয়। কিছু অকাট্য সত্য এই আদালতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে:

 রায় আগেই ঠিক করা ছিল

• কোনো সম্মানিত বিচারক এই আদালতকে বৈধ মনে করবেন না

• ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত আদালতকে আজ রাজনৈতিক প্রতিশোধের অস্ত্র বানানো হয়েছে

আমি অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। শর্ত হচ্ছে বিচারটি হতে হবে একটি প্রকৃত, স্বাধীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আদালতে, যেখানে প্রমাণ ন্যায্যভাবে যাচাই হবে। তাই আমি বারবার আহ্বান জানিয়েছি যে অভিযোগগুলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো হোক। অন্তর্বর্তী সরকার কখনোই এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, কারণ তারা জানে আইসিসি সত্য উদ্ঘাটন করলে আমিই নির্দোষ প্রমাণিত হব এবং তাদের নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও প্রকাশ হয়ে যাবে।

আমার সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল এবং আমরা জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতাম। আমরা কখনো কোনো সাধারণ নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন পদক্ষেপ নেইনি।

অন্যদিকে ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে এবং চরমপন্থীদের সহযোগিতায় ক্ষমতা দখল করেছেন। তার সময় ছাত্র, শ্রমিক, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রতিটি আন্দোলন দমন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সাংবাদিকরা হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছেন।

ক্ষমতা দখলের পর গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তাদের বাড়িঘর জ্বালানো হয় এবং আহতদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়। সারা দেশে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী এবং সমর্থকের সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ঘটনা ইউনূসের পরিকল্পনায় সংঘটিত হলেও তাদের সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বরং তার প্রসিকিউটর আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপরাধের দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। এ সময় সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং কারাগারগুলো ভরে উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক দিয়ে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে

গত বছরের জুলাই এবং আগস্টে যা ঘটেছে তা ছিল একটি ভয়াবহ দুঃখের ঘটনা। অনেক পরিবারের প্রিয়জন হারিয়ে গেছে। বিশৃঙ্খলা থামানোর জন্য আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম তা ছিল সৎ উদ্দেশ্যে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি প্রাণহানি কম রাখতে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিকে সরকার কর্তৃক ইচ্ছাকৃত আক্রমণ বলা সত্যের বিকৃতি।

আইসিটির প্রসিকিউটররা কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে আমি কখনো প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। যেসব অডিও টেপ দেখানো হয়েছে সেগুলো খণ্ডিত এবং প্রসঙ্গবহির্ভূত। বাস্তবে মাঠ পর্যায়ের বাহিনী আইনগত প্রোটোকল মেনে পরিস্থিতি সামলাচ্ছিল।

৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ছাত্ররা অবাধে আন্দোলন করেছে এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। তাদের সব দাবি আমি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু মধ্য জুলাই থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কারণ ব্যাপক নাশকতার কারণে ইন্টারনেট বিভ্রাট দেখা দেয়।

সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়, অস্ত্র লুট হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হয়। এসব সহিংসতার মুখে সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংবিধান রক্ষায় কাজ করেছে।

আইসিটির প্রসিকিউটররা বারবার যে জাতিসংঘের রিপোর্ট উদ্ধৃত করেছে তা গোপন সাক্ষ্যের ওপর তৈরি এবং অনেক সাক্ষীই নিজেরাই অভিযোগের মুখোমুখি ছিল। যেসব নথি আওয়ামী লীগের পক্ষকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারত তা গোপন করা হয়েছে।

মৃত্যুর সংখ্যাও অস্পষ্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাইকৃত সংখ্যা ৮৩৪ হলেও জাতিসংঘ ১৪০০ বলেছে। এমনকি ঘোষিত মৃতদের মধ্যে ১৯ জন পরে জীবিত পাওয়া গেছে।

আমি মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। আমার সরকারের উন্নয়ন ও মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা বাংলাদেশকে আইসিসিতে যুক্ত করেছি, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি, বিদ্যুৎ ও শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছি এবং ১৫ বছরে জিডিপি ৪৫০ শতাংশ বাড়িয়েছি।

ই অর্জনগুলো প্রমাণ করে আমরা কখনো মানবাধিকারে উদাসীন ছিলাম না। ড. ইউনূস এবং তার অনুসারীরা এসব অর্জনের সামান্য কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত শাহবাগ, রাজধানীর যান চলাচলে স্থবি

1

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তায় ৪৮% মানু

2

এবার প্রকাশ্যে বাংলাদেশ থেকে সম্পদ লুটের কথা জানাল আমেরিকা

3

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার আকাশ

4

শিশু ধর্ষণ, টাকার বিনিময়ে মীমাংসায় জামায়াত নেতা

5

বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশে জঙ্গি রপ্তানি করছে পা

6

ন্যায়বিচারের ধ্বংসলীলা: ইউনূসের নির্দেশে দেশে বইছে ভুয়া মা

7

গণমাধ্যমে ফের থাবা, জামায়াত বিএনপিকে নিয়ে এবার জনকণ্ঠ দখল এন

8

ইউনুস সরকারের ব্যর্থতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে অনিশ্চয়তার ঘন

9

নসিপি ও বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ নয় নারী নেত্রীরা

10

রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল আওয়ামী লীগের, অবৈধ ইউনুস সরকারের প

11

আদালত পাড়া এখন মবের মুল্লুক

12

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

13

জাতিসংঘের চক্রান্তে বাংলাদেশে সহিংসতা ও প্রাণহানীর ঘটনা

14

মার্কিন চুক্তির নীলনকশা : শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে সার্বভৌমত্বের

15

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

16

সংসদ ভবন ঘিরে উত্তেজনা: জুলাই সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

17

চাঁদাবাজ রিয়াদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি

18

তিন বাহিনীকে নিয়ে জাতির সঙ্গে ইউনুসের প্রেস উইংয়ের মিথ্যাচ

19

সেবা নিতে হয় ঘুষ দিয়ে, মত প্রকাশেও শ্বাসরোধ

20