আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানে একটি সুরক্ষিত ভবনে হামলার সময় তিনি শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ পরিচালনায় একটি অস্থায়ী ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।
লারিজানি কি হচ্ছেন ক্ষমতার কেন্দ্র?
এই সংকটময় মুহূর্তে আলোচনায় উঠে এসেছে আলী লারিজানির নাম। তিনি বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গত এক বছরে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, লারিজানি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার ভেতরের মানুষ। তিনি সাবেক রেভোল্যুশনারি গার্ড সদস্য, ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত প্রধান পরমাণু আলোচক এবং ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হামলা ও পাল্টা হামলা
বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও বিপ্লবী গার্ডের একজন শীর্ষ কমান্ডারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর ইরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।
উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণ করবে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল।
তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সামনে চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু শুধু নেতৃত্বের শূন্যতা নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও আঞ্চলিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। লারিজানি আপাতত অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সামনে এলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐকমত্যের ওপর।
এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—ইরান কি দ্রুত নতুন নেতৃত্বে স্থিতিশীল হবে, নাকি সামনে আরও অস্থিরতা অপেক্ষা করছে।