নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আশায় ছিলেন অনেকেই। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মামলা ছাড়া রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ উঠতে শুরু করায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনা এসব প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগ কর্মী আটক
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রানিছাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী মীর সাইদুর রহমানকে শনিবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা, অভিযোগ বা জিডি ছিল না। গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ্যে এনে স্বচ্ছভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করা হোক।
একই ধারা দেশের অন্যান্য জেলায়ও?
স্থানীয়দের মতে, শুধু নেত্রকোনা নয়—সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় একই কায়দায় আগে গ্রেফতার, পরে মামলা দেওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মীরা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা ভীতি প্রদর্শনেরই একটি কৌশল হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা
ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত নিরাপত্তা অভিযান বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় বলে দাবি করে থাকে সংশ্লিষ্টরা। তবে মীর সাইদুর রহমানের ক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যাখ্যাই এখনো পাওয়া যায়নি।
আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একই অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তবে তা গণতান্ত্রিক চর্চা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মীর সাইদুর রহমানের পরিবার তার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলছে, অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে আদালতে উপস্থাপন করা উচিত, গোপনে গ্রেফতার নয়।
মন্তব্য করুন