নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট
সিলেটের হাউজিং এস্টেট এলাকায় সাম্প্রতিক ছিনতাই ও সন্ত্রাসী ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তার প্রভাবের কারণেই এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহ মোবাশ্বিরকে হঠাৎ করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, ওসি শাহ মোবাশ্বির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকায় চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নেন। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তিনি অপরাধীদের আটক করতেন এবং অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু সম্প্রতি হাউজিং এস্টেটে এক নারীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাদের নাম উঠে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
প্রকাশ্য দিবালোকে সিএনজি থামিয়ে এক নারীর অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় উঠে আসে ছাত্রদল নেতা এবং বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ শফি শাহেদ (ডুম শাহেদ)-এর নাম। ওসি মোবাশ্বির বিষয়টি এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের অনুমতি চান। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এতে সম্মতি দিলেও কয়েস লোদী আপত্তি জানান। তার দাবি ছিল, দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।
ওসি মোবাশ্বির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে চাননি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো অবস্থানেই অবশেষে তাকে আকস্মিকভাবে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। স্থানীয়দের সন্দেহ, এই বদলির পেছনে কয়েস লোদীর চাপই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
সিলেট বিএনপির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ডুম শাহেদের মতো বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করার অভিযোগ সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হাউজিং এস্টেট এলাকার পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয় পেলে সাধারণ মানুষ আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সিলেটজুড়ে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরছে: একজন সৎ ওসি সরিয়ে দেওয়া হলো কার স্বার্থে? আর হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যের সুবিধা পাচ্ছে কারা?
মন্তব্য করুন