নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনুস সরকারের অভিযোগ ছিল একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে সহায়তা করেছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা; ডিসি–এসপি থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত। সে সময় কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল না, তবুও সেই নির্বাচনগুলো ইতিহাসে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অথচ ২০২৬ সালের নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আরও গুরুতর বাস্তবতায়। এবার একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে জোরপূর্বক বাইরে রেখে, একটি অসাংবিধানিক ও পুতুল সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এটি আর কেবল একতরফা নির্বাচন নয় বরং পরিকল্পিতভাবে নির্মিত একটি নীলনকশার নির্বাচন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে, যেখানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভূমিকা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাস যদি তার নিজস্ব নিয়মে বিচার করে, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রশাসনিক সহযোগী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিণতি ভিন্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের উল্টো কথাই শেখায়।
২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা বহু সচিব, ডিসি ও এসপি পরবর্তীতে চাকরি হারিয়েছেন, ওএসডি হয়েছেন, মামলার আসামি হয়েছেন কেউ কেউ কারাবরণও করেছেন। এমনকি তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারদেরও অপমান ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। অর্থাৎ, ক্ষমতার সময়কার আনুগত্য কখনোই পরবর্তী সময়ে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়নি।
এই বাস্তবতা একটি কঠোর বার্তা দেয়—নির্বাচন কোনো ব্যক্তি, দল বা অস্থায়ী সরকারের স্বার্থে নয় এটি রাষ্ট্র ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। আজ যারা ক্ষমতার ছায়ায় নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন, ইতিহাস তাদের সেই নিশ্চয়তা দেয় না।
সময় বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু ইতিহাসের হিসাব শেষ পর্যন্ত দিতেই হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এটাই চূড়ান্ত বাস্তবতা। সিদ্ধান্ত আজ নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তার বিচার হবে আগামী দিনে ইতিহাসের আদালতে।
মন্তব্য করুন