নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ, দেশত্যাগ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, দেশ ছাড়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না; বরং পরিস্থিতির চাপে তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে।
ভিডিও বার্তার শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি যে আমাকে দেশ ছেড়ে আসতে হবে। আমি জানতামও না।’ গণভবন ঘেরাওয়ের সময় প্রাণহানি এড়াতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা জানান, তার ইচ্ছা ছিল টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার। তার ভাষায়, ‘আমার সিকিউরিটি যারা ছিল, তারা আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এল। আমি বললাম, আমি টুঙ্গিপাড়া চলে যাব, আমি থাকবই না। এত কথা শুনে আমাকে কেন চালাতে হবে? থাকতে হবে?’
দেশত্যাগের বিষয়টি যে পরিকল্পিত ছিল না, সেটিও তিনি জোর দিয়ে বলেন। ভিডিওতে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ‘আমি জানি আমি টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছি। আমি অনেক পরে জানতে পারলাম, যখন আমি বর্ডার (সীমান্ত) ক্রস করছি, তখন বলছে আমরা অমুক জায়গায় যাচ্ছি। তো এটার আয়োজনটা বা কীভাবে হলো, সেটাও আমি জানি না। মানে ওরা একেবারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই সব প্রোটোকল দিয়েই আমাকে বনবাসে দিয়ে গেল।’
নিজ সরকারের সময় দেশের উন্নয়ন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার যেটা লক্ষ্য, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করে দিয়েছি, যথেষ্ট।’
ভিডিও বার্তায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সবই আমি হারিয়েছি। বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। এমনকি ঘরবাড়ি যা কিছু ছিল স্মৃতিচিহ্ন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর থেকে শুরু করে সবই লুটপাট, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে।’
তবে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার বিষয়টিকেই বেশি বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘হারাবার কিছু নেই। এই জন্য ভয়ও নেই, কোনো দুঃখও নেই। কারণ আমার আওয়ামী লীগের অগণিত নেতা-কর্মী বা যারা একটু আওয়ামী লীগ করেছে বা যাদের পরিবার আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, তাদের তো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সব শেষ করে দিয়েছে। যখন তাদের কথা চিন্তা করি, নিজেরা কী হারালাম, সেটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না।’
মন্তব্য করুন