ডেস্ক রিপোর্ট
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। সরকারি হিসেবে নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণ ছিল উচ্চ। তবে বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, ফলাফলের পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।
সরকারি ফল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং গণভোটে প্রায় ৬০.২৬ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, আর জামায়াত-এ-ইসলামী ও এনসিপি জোট বিরোধী আসনে উঠে এসেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে জুলাই ন্যাশনাল চার্টার নামে পরিচিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব।
তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকে “পূর্বপরিকল্পিত প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম থাকলেও ফলাফলে তা প্রতিফলিত হয়নি। তিনি নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোটের হার নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ১৪–১৫ শতাংশ। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে ৩২ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশিত হয়। এই দ্রুত বৃদ্ধির ব্যাখ্যা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
গণভোটের ব্যালট নকশা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। একাধিক সাংবিধানিক সংশোধনী একসঙ্গে একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। কোথাও কোথাও ভোটের সংখ্যা নিবন্ধিত ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানোর অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, ভোট কেনাবেচা, ব্যালট সিল নিয়ে অনিয়ম এবং গণনার অসঙ্গতির অভিযোগ করেছে বিভিন্ন দল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও প্রতিবেদন এসব বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে প্রতিযোগিতার পরিসর সংকুচিত হয়, যা গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন ও গণভোট কাগজে-কলমে উচ্চ অংশগ্রহণ ও স্পষ্ট ফল দেখালেও, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া আস্থার সংকট কাটানো কঠিন হবে।
মন্তব্য করুন