Insight Desk
প্রকাশ : Jul 16, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছিলেন আসিফ মাহমুদ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বুধবার (১৬ জুলাই) সাধারণ জনগণের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষ ও অভিযান পরিচালনার পুরো মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব নিজেও ফেসবুকে লিখেছেন, “সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের ভেঙে দেওয়া হবে।”

কারফিউ ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঘটনার পর গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাতের সেখানে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও একটি দফা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনাটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। সমাবেশ পরবর্তী উত্তেজনার কারণে এনসিপি নেতারা শহর থেকে বের হতে না পেরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর এপিসি গাড়িতে করে পালিয়ে যান। পালানো নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের কঠোরতা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনাস্থলে প্রথমে সেনাবাহিনী জনসাধারণকে থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তারা পিছু হটে। এরপর আবার ফিরে এসে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে।

বিতর্কিত স্লোগান

গোপালগঞ্জ সফরের ঠিক আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দেন। তাঁর দেওয়া স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’, ‘এই কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কী বাপ দাদার’ ইত্যাদি। এই স্লোগানের ব্যাপারে সজীব ভূঁইয়া সংক্ষেপে বলেন, “যারা তখন বাংলা ছাড়তে বলেছিল, তারা এখন কোথায়? তারা কি এখনো বাংলায় আছে?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের যদি এমন নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে দেশের রাজনীতির স্বাভাবিকতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এতে জনগণের মধ্যে দুর্ভরতা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূসে হতাশ বাংলাদেশ, জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

1

অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির অভিযোগে এনসিপি ও বৈছাআ থেকে

2

৭ মার্চের ভাষণ কি আজ অপরাধ?

3

কণ্ঠরোধ করে ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠা করছেন ইউনূস

4

ইউনূসের পরিকল্পনায় বাংলাদেশ কী নতুন ৭১-এর মুখোমুখি

5

পিআইবি ভবনেই ছিল বাকশালের দপ্তর—ফারুক ওয়াসিফের দাবির ঐতিহাসি

6

এনায়েতপুরে ১৫ পুলিশ হত্যা: জামায়াত-শিবির জড়িত থাকায় এক বছরেও

7

এক মাসেও যাত্রী সংকটে ‘গোলাপি’ বাস, প্রতিদিন লোকসান ৫০ থেকে

8

যুবদল নেতার গরু চুরির কথা ফেসবুকে লেখায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা

9

আদর্শের বদলে আসনের রাজনীতি: এনসিপির ক্ষমতা দখলের অক্ষমতা উন্

10

এবার দুর্নীতি করে ধরা খেল জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড মাহফ

11

রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ চেষ্টা, আন্দোলনকারীদের

12

শিক্ষার্থীদের দমাতে হাসনাত-সার্জিসকে দিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রে আসি

13

পিটার হাস-ইউনূস মহেশখালী কানেকশন, ভূ-রাজনীতির নতুন খেলা শুরু

14

এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও T20 বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিল ICC

15

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সময়: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

16

৫ আগস্টের পর বিএনপির দখলকাণ্ডে দিশেহারা জনগণ

17

শিবির-ছাত্রদল উত্তেজনার মধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ইবিতে ছাত্রলীগ

18

বাবা–মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন জোয়াহেরুল ইসলাম

19

এনসিপি নেতা মুনতাসিরের হুঁশিয়ারি: ‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের সব বে

20