Insight Desk
প্রকাশ : Dec 31, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আইন–শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ: আগুন–ভাঙচুর, গণহিংসা ও ধর্মীয় সহিংসতায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইন–শৃঙ্খলার অবনতির সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন ও ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় উসকানিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। চলতি ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানো ও ভাঙচুর চালানোর ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে আগুন লাগে এবং রাত সোয়া আটটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। উদীচী নেতারা অভিযোগ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং সরকারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনা সাম্প্রতিক দিনে গণমাধ্যমের অফিসগুলোতে হামলার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর অফিস এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট–এর ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সহিংসতার প্রতিচ্ছবি।

আইন–শৃঙ্খলার অবনতির সবচেয়ে ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫–এর দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্মীয় ভিত্তিতে সংঘটিত গুজবের কারণে জনতার হাতে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তাঁর দেহে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে ২২ ও ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় একটি স্পষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—গুজব, ধর্মীয় উসকানি এবং মৌলবাদী চিন্তার দ্রুত বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় সহিংসতা আরও তীব্র হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সার্বিকভাবে, ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে সংঘটিত উদীচীর কার্যালয়ে আগুন, গণমাধ্যমে হামলা এবং দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের আইন–শৃঙ্খলা, সামাজিক সহনশীলতা এবং উগ্রবাদ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ, সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং মৌলবাদ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি এখন সর্বমহলে জোরালো হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূসের নেতৃত্বে হাঁটুভাঙা প্রতিষ্ঠানে পরিণত দুদক

1

রায়ের মঞ্চে রাজনীতি: ইতিহাস টেনে ‘দমে না যাওয়ার’ বার্তা আওয়া

2

পাকিস্তানকে ৭১-এর গণহত্যার দায় মুক্তি দিতে ইউসূসের যত আয়োজ

3

দেশ ছাড়ার পরিকল্পনায় ইউনুস! সাথে থাকছেন কয়েকজন উপদেষ্টা

4

৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে চারজন গ্রেপ্তার

5

ভোটের দিন হামলার শঙ্কা

6

অন্তর্বর্তী সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই আইনের শাসনকে পেছনে ঠেলে দ

7

চা বিক্রেতা থেকে গাড়ির ব্যবসা, দারোয়ানের ছেলে রনির ৫ আগস্টের

8

চাইলাম কি আর পাইলাম কি—এই তো লাল স্বাধীনতা

9

শিবির-ছাত্রদল উত্তেজনার মধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ইবিতে ছাত্রলীগ

10

দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন: রাডার প্রকল্পে শেখ হাসিনা সরকার

11

কঠিন মুহুর্তে আবারও বাংলাদেশের পাশে ভারত

12

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তায় ৪৮% মানু

13

বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ

14

গোপালগঞ্জে বিচারবহির্ভূত হত্যা চালাল সেনাবাহিনী, নিহত ৭

15

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা, এবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করল আরব আমি

16

জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ‘নবজাতক দল’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনায়

17

উচ্চ সুদহারে ঝুঁকিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান

18

বগুড়ায় পৈতৃক বাড়িতে আগুন: বিএনপিকে দায়ী করলেন পিনাকী

19

রক্তে রাঙানো একুশ—শোক থেকে আত্মমর্যাদার অভিযাত্রা

20