নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সহিংসতার ঘটনা, যা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভোটের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের শঙ্কা এখনো কাটেনি।
নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও তথ্য অনুযায়ী, চলমান নির্বাচনী সময়সীমার ৫৩ দিনে সারা দেশে অন্তত ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এসব ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ভোটের দিন পরিবেশ স্বাভাবিক না থাকলে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হবেন না। এতে নির্বাচন সহিংসতার পাশাপাশি কার্যত ভোটারবিহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলতে পারে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসন এখনো জনমনে পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি—এমন অভিযোগও উঠছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তেও মাঠপর্যায়ে পুলিশের দৃশ্যমান প্রস্তুতি ও কার্যকর উপস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। এর মধ্যেই র্যাবের নাম পরিবর্তন ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ভোটারবিহীন একটি নির্বাচন শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে না, বরং দেশকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন ঘিরে চলমান সহিংসতার এই চিত্র স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভোটের দিনই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।