আওয়ামী লীগের মিছিলে কতজন নেতাকর্মী ছিলেন, সেই সংখ্যা নিয়ে যারা হিসাব কষছেন, তারা হয়তো একটি বড় রাজনৈতিক বার্তাকে শুধু সংখ্যার অঙ্কে মাপছেন। একশ বা দেড়শ নেতাকর্মীর একটি ছোট মিছিলের সঙ্গে যদি সত্যিই হাজারো সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে থাকে, তবে সেটি শুধু একটি দলের কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাংশের মানুষের জমে থাকা অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
গুলশান-বনানীর মতো এলাকায় এমন দৃশ্যকে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, ফুটপাতের বিক্রেতাসহ খেটে খাওয়া মানুষের উপস্থিতি দেখিয়েছে যে রাজনীতির হিসাব শুধু সভাকক্ষ, টকশো কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত হয় না।
গত দুই বছরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের তুলনাও করছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাদের মতে, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সূচকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন তারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যে সেসব অর্জনের মূল্য নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়েও নির্বাচন, মানবাধিকার, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে সমালোচনা ছিল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর মধ্যেই শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়ছে। তাদের কাছে গুলশানের সাম্প্রতিক মিছিল তাই নিছক কয়েক সেকেন্ডের একটি কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ নীরবতার পর আবার রাজপথে দৃশ্যমান হওয়ার একটি সংকেত।
তবে মিছিলে আট থেকে দশ হাজার সাধারণ মানুষ যুক্ত হওয়ার দাবি কিংবা তাদের সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে অংশ নিয়েছেন কি না, স্বাধীনভাবে যাচাই ছাড়া নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে একটি কর্মসূচিকে দেশব্যাপী জনমতের প্রতিফলন বলার জন্যও আরও বিস্তৃত প্রমাণ প্রয়োজন।
তারপরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে: রাজপথে যদি আওয়ামী লীগের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাতে যুক্ত হতে থাকে, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কি সহজ হবে, নাকি তার আগেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় দেখা দেবে?
মন্তব্য করুন