Insight Desk
প্রকাশ : Sep 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তান থেকে আসা গোলাবারুদেই কি হাটহাজারীতে ট্যাংক বিস্ফোরণ?

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর লাইভ ফায়ার প্রশিক্ষণের সময় টাইপ ৫৯জি ‘দুর্জয়’ ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য নিহত এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গোলাবারুদের মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বুধবারের এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ট্যাংকের কামানের ব্যারেলে প্রতিবন্ধকতা, গোলাবারুদের ত্রুটি, সংরক্ষণজনিত সমস্যা কিংবা গোলাবারুদের মানসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কামানের ব্যারেলের ভেতরে কোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ আটকে থাকা কিংবা অতিরিক্ত কার্বন জমে গেলে গোলা নিক্ষেপের সময় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হতে পারে। একইভাবে গোলাবারুদের প্রপেল্যান্ট বা অন্য কোনো উপাদানে ত্রুটি থাকলেও ব্যারেল বা চেম্বারে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত গোলাবারুদটি কোথায় তৈরি হয়েছিল এবং কোন চালান বা ব্যাচ থেকে সেটি এসেছিল, তা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবহৃত গোলাটি পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের মান, আমদানির পর পরীক্ষা এবং সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ৪০ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, ২ হাজার ট্যাংক রাউন্ড, ৪০ টন আরডিএক্স এবং ২ হাজার ৯০০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রজেক্টাইল আমদানির তথ্য সামনে এসেছে। তবে হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাটি ওই চালানের অংশ ছিল কি না, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গোলাটি কোন দেশের তৈরি ছিল? কোন ব্যাচ থেকে এটি নেওয়া হয়েছিল? আমদানির পর গোলাবারুদের প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না? একই ব্যাচের অন্য গোলাবারুদগুলো ব্যবহারের জন্য নিরাপদ কি না?

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গোলাবারুদকে বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। গোলার অবশিষ্টাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের ব্যারেল ও চেম্বার এবং একই ব্যাচের অব্যবহৃত গোলাবারুদের কারিগরি পরীক্ষা থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
দুই সেনাসদস্যের প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনার পর তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি ব্যবহৃত গোলাবারুদের উৎস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্যও সামনে আনার দাবি উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন: রাডার প্রকল্পে শেখ হাসিনা সরকার

1

ময়মনসিংহের ফুলপুরে যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার

2

ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত’ কৌশল; ভিন্ন নামে ক্যাম্পাস নির্বাচন

3

পিনাকির নির্দেশে এনসিপি-জামায়াত-বিএনপিকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন ইউ

4

এসেনশিয়াল ড্রাগসে এমডি পদ ঘিরে ৩০ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ

5

আগস্টে আমরা পুলিশ মেরে ঝুলিয়ে রেখেছি—সিগন্যাল অমান্য করে উল্

6

নির্বাচনের ফল ঘোষিত, আস্থার সংকটে বাংলাদেশ

7

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খেলার মাঠ পার্বত্যাঞ্চল; আলোচনায় চট্টগ্র

8

এক তীরে তিন শিকার: ভারত–ইইউ FTA-তে চাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশ

9

ভোলার লালমোহন উপজেলায় যুবদলের নেতার ছেলে হলেন ছাত্রলীগের সাধ

10

জুলাই ঘোষণাপত্র ইতিহাস বিকৃতির এক নির্লজ্জ প্রয়াস

11

ইউনূস সরকারের ছত্রছায়ায় জঙ্গিবাদে শিশু-কিশোররাও, দেশে বাড়ছে

12

রাষ্ট্রের ট্যাক্স অফিস এখন নিলামে : এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে

13

চাঁদা শুধু বিএনপি না এনসিপি-বৈষম্যবিরোধীরাও খায়, ধরা খেলেই ব

14

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০ মাসে আইপিওশূন্য পুঁজিবাজার

15

আমেরিকা থেকে যুদ্ধবিমান কেনাতেই কি এই বিমান বিধ্বস্তের পরিকল

16

ভোট নয়—এবার বাঁচার লড়াই: সজীব ওয়াজেদ জয়

17

জঙ্গিদের বাঁচাতে গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গ

18

স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে রাঙামাটিতে গ্রেপ্তার ৫, তাদের একজ

19

পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছিলেন আসিফ মাহমুদ

20