মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন মা। অসুস্থ মায়ের সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি। জীবিত অবস্থায় মায়ের কাছে যেতে পারেননি কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল পান তিনি।
বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর সকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর কারাগারে পৌঁছানোর পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তার প্যারোলের আবেদন করা হয়। পরে প্রশাসন পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করে।
এর আগে গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোল চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখার আকুতি জানিয়েছিলেন তার মা। তবে সেই সময় প্যারোল না পাওয়ায় মা ও ছেলের শেষ দেখা আর হয়ে ওঠেনি।
মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে এসে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। কান্নায় ভেঙে পড়ার সেই মুহূর্ত তার দীর্ঘ কারাবাস এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে কারাবন্দি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে সামনে আসার পর রাষ্ট্রদ্রোহসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে আসামি বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার এখনো চলমান এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এরই মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তবে অন্য মামলা বিচারাধীন থাকা এবং সেসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তার পূর্ণাঙ্গ মুক্তি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তার সমর্থক ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, একের পর এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও কেন তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব না ফেলে, সেটিও নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
সব আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে বুধবারের ঘটনা সামনে এনেছে এক মা ও সন্তানের বেদনাদায়ক গল্প। জীবিত অবস্থায় যে মা শেষবার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর সেই ছেলেই পেলেন মাত্র পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল।
মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ ঘণ্টা সময় পাওয়া গেল, কিন্তু জীবিত মায়ের সঙ্গে শেষবার দেখা করার সেই একটি মুহূর্ত আর কোনোদিন ফিরবে না।
মন্তব্য করুন