Insight Desk
প্রকাশ : Sep 15, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যুদণ্ডের আসামি বাবরকে ফিরিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল বানানোর চেষ্টায় ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর। ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো নৃশংস ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি চলতি বছরের জানুয়ারিতে খালাস পান। অথচ মাত্র কয়েক মাস পরই দেখা গেল তাকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করতে, যেন তিনি কোনো ভিভিআইপি।

গত রোববার প্রায় ১৯ বছর পর বাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আসামির খালাস কি সত্যিই ন্যায়বিচারের প্রতিফলন, না কি রাজনৈতিক চাপে পাল্টে যাওয়া ইতিহাস?

বাবরের অতীত: অস্ত্র ও রক্তের কালো অধ্যায়

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বাবর। তার আমলেই সংঘটিত হয় একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা। ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে জব্দ করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় বাবরের মৃত্যুদণ্ড হয়। একইভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলাতেও তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

উইকিলিকসের প্রকাশিত গোপন নথি বলছে, ২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতি ছিল। হামলার আগে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে বাবর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হ্যারিস চৌধুরী, জামায়াত মহাসচিব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. আবদুর রহিম এবং ডিজিএফআই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাকুল হায়দার চৌধুরী। নিজেও একসময় বাবর স্বীকার করেছিলেন—রাষ্ট্রের ভেতর থেকেই সন্ত্রাসকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হতো।

আইনি খালাস, নৈতিক দায় অটুট

দুই দশক পর মামলাগুলোর রায় একে একে পাল্টে যায়। খালাসের ফলে তিনি মুক্ত হলেও নৈতিক দায় থেকে যায় বহাল। মৃতদের স্মৃতি মুছে যায় না, রক্তাক্ত ইতিহাস মুছে যায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালাস মানেই দায়মুক্তি নয়। বাবরের স্বীকারোক্তি ইতিহাসে রয়ে গেছে, তার আমলের রক্তক্ষয়ী ঘটনাগুলো এখনো পরিবারগুলোর বুকে ক্ষত হয়ে আছে। অথচ সেই বাবরই যখন আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন, তখন সেটি হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে বড় উপহাস—যে মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানেই অপরাধপ্রমাণিত ব্যক্তিকে ফেরানো হলো।

অস্থিতিশীলতার শঙ্কা

বাবরের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও রাজনীতির সীমারেখার ভঙ্গুরতার প্রতীক। ক্ষমতা ও প্রভাব থাকলেই প্রতিষ্ঠানকে বেঁকিয়ে নেওয়া যায়—এটাই আবার প্রমাণ হলো। জনগণের প্রশ্ন—এই ফিরে আসার মাধ্যমে কি দেশকে আবারও অস্থিতিশীলতার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই আন্দোলনের নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক

1

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামের প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের

2

সারাদেশে যুবলীগ নেতাকর্মীদের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

3

স্থানীয় ষড়যন্ত্র ও গোপন মার্কিন অভিযানের ফল ৫ আগস্ট

4

সেনাবাহিনীতে আরও ৬ কর্মকর্তার রদবদল

5

বিমানবাহিনীতে জঙ্গি নেটওয়ার্কের চেষ্টা? পেশোয়ার থেকে এল নতুন

6

ময়মনসিংহে রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল

7

বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ: বিচারে

8

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

9

গণমাধ্যমে ফের থাবা, জামায়াত বিএনপিকে নিয়ে এবার জনকণ্ঠ দখল এন

10

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা: জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিত

11

যোগ্যতায় রিটেন পাস করতে হবে, ভাইভায় ইনশাআল্লাহ সাহায্য করবো’

12

অন্তর্বর্তী সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই আইনের শাসনকে পেছনে ঠেলে দ

13

মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা, হাজার ডলারের আক্রমণ আধুনিক যুদ্ধে

14

রাষ্ট্রীয় বৈধতা পেল জঙ্গিবাদ, ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবে দেখছে

15

সুন্দরবনে কোলাহলপূর্ণ পিকনিক: সমালোচনার কেন্দ্রে উপদেষ্টা সৈ

16

রংপুরে বরাদ্দের আগেই এনসিপির ‘শাপলা প্রতীকে’ প্রচারণা, সরকার

17

চট্টগ্রাম বন্দরে উত্তেজনা, খোকন নিখোঁজের অভিযোগ

18

চাঁদপুরে ঢাকাগামী শিক্ষকবাহী লঞ্চ আটকে দিল পুলিশ, আন্দোলন অব

19

জরিপ: ভোট দিতে যাবেন না ৮৭ ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থক, ৯২ ভাগের স

20