Insight Desk
প্রকাশ : Feb 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সংবিধানের কোনো বিধান মানা হয়নি—রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

"বঙ্গভবনের সাক্ষাৎকারে সরাসরি অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া"

জাতীয় দৈনিক "কালের কন্ঠে " দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। বিদেশ সফর, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত।

অপসারণচেষ্টার ইঙ্গিত

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তাকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল। তবে সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। রাষ্ট্রপতির মতে, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি একাধিকবার “সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা”র ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি রাজনৈতিক চাপ বা আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের পথকে সমর্থন করেন না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি নীতিগত অবস্থান হিসেবে দেখা যেতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে রাষ্ট্রপতির অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিদেশ সফর ও আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়টি সামনে এনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। এতে সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে তিন বাহিনীর সমর্থনের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার কেবল ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে কয়েকটি বড় রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে—

 • সাংবিধানিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে
 • অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে যাচাইয়ের দাবি উঠতে পারে
 • রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

সব মিলিয়ে, এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সংবিধান ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ব খেলোয়াড়ের কারিশমায় বিপাকে প্রবাসীরা, হুমকির মুখে দেশের

1

জুলাই আন্দোলন: সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় জামায়াত

2

চুক্তির ফাঁদে বেশি দামে কেনা হচ্ছে আমেরিকান গম: ইউনুস সরকারে

3

চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা,

4

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে হাইজ্যাক করেছে জঙ্গিরা?

5

ইউনূসের আমলে সুইস ব্যাংকে রেকর্ড অর্থ জমা, বেড়েছে ৩৩ গুণ

6

ট্রাম্পের দরজা খুলল ভারতের জন্য, ধাক্কায় বাংলাদেশ ৩০ ট্রিলি

7

জামায়াত-শিবিরের নতুন কৌশল, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পুলিশি হয়রানি

8

শেখ হাসিনাকে নিয়ে করা প্রতিবেদনে যেসব বিষয় লুকিয়েছে বিবিসি

9

ভারতসহ ৮ দেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না

10

এমপি ছাড়াই ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বাড়ছে ৩৯% অন্তর্বর্তী সরকারে

11

আইন–শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ: আগুন–ভাঙচুর, গণহিংসা ও ধর্মীয় স

12

এক তীরে তিন শিকার: ভারত–ইইউ FTA-তে চাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশ

13

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার আকাশ

14

হুমকিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, পাকিস্তানি কনফেডারেশনের নতুন ষ

15

কয়েকটি আসনে ভোটারের চেয়ে ভোট বেশি

16

গণভোটের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

17

ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি, নেপথ্যে অর্থনীতিবিদ ইউনূস

18

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান চীনা দূতাবাসের কূট

19

বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায় জামায়াত, বাস্তবায়নে তৎপর গুপ

20