অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, “আমাকে সরিয়ে দেশ ও জাতির কী অর্জন হলো?”
তিনি সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। সরকারের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কার্যত কর্মহীন, আর্থিক সংকটের মধ্যে কাটছে তাঁর দিন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দীর্ঘ নীরবতার পর নিজের কষ্ট ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন। প্রায় আঠারো মাস দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদায়ের পরই তিনি মুখ খুললেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল সরাসরি— রাষ্ট্রের কোনো কল্যাণে যদি তাঁর অপসারণ হয়ে থাকে, তবে সেটি কী?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে সমুদ্র বিজ্ঞানে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বের হওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী ১৩তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৪ সালে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে সচিব পদে উন্নীত হন। সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন পেশাদার ও নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে।
কিন্তু হঠাৎ করেই সেই পথ থেমে যায়। বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্তের পর থেকে তাঁর আয় বন্ধ হয়ে যায়। ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। তবু প্রকাশ্যে কখনও অভিযোগ তোলেননি।
তাঁর সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে প্রতিফলিত হয়েছে এক ধরনের হতাশা, তবে তাতে বিদ্বেষের চেয়ে বেশি ছিল প্রশ্ন। রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা একজন কর্মকর্তার জীবনে আকস্মিক এই ছেদ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, মানবিক বাস্তবতাও তৈরি করেছে।
প্রশাসনে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নতুন নয়। তবে এমন সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি ও প্রভাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়। সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের আক্ষেপ সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে— একটি সিদ্ধান্ত কি কেবল পদ সরায়, নাকি একটি জীবনের গতিপথও বদলে দেয়?