সিলেটের রিকাবীবাজার অডিটোরিয়াম থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে পুরনো নাম ফেরানোর সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার বদলালেই জনপরিসরের নাম বদল—এ অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সংস্কৃতির মঞ্চ কি এখন কেবল রাজনৈতিক প্রতীক পাল্টানোর জায়গা?
প্রায় দুই দশক ধরে “কবি নজরুল অডিটোরিয়াম” নামে পরিচিত স্থাপনাটি আবারও নাম পরিবর্তনের পথে। সরকার জানিয়েছে, আগের নাম “এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম” পুনর্বহাল করা হবে।
মঙ্গলবার অডিটোরিয়াম পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। দীর্ঘদিনের অবহেলায় থাকা ভবনটির সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণার পাশাপাশি নাম বড় করে প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, সংস্কারের চেয়ে নাম পরিবর্তনই কেন হয়ে উঠছে মূল আলোচ্য বিষয়?
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাকালে এটি ছিল “সিলেট অডিটোরিয়াম”। পরে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান-এর নামে নামকরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নাম বদলে রাখা হয় “কবি নজরুল অডিটোরিয়াম”। এখন আবার নতুন সিদ্ধান্তে আগের নাম ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন, জাতীয় কবির নাম সরিয়ে দেওয়া কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক বার্তাও বহন করে। তাদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনপরিসরের নাম বদলানোর এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে।
মন্তব্য করুন