নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ নভেম্বর ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার ময়মনসিংহের বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ঘিরে আবারও নতুন করে সন্দেহ, বিতর্ক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটকের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই রাফিয়ার ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করে—‘জঙ্গি লীগ হামলা করেছে’। তবে ঘটনাস্থলের প্রাথমিক ছবি, বিবৃতি এবং ঘটনার সময় নির্বাচন করে হামলার গল্প তৈরির ধরন দেখে অনেক বিশ্লেষকই এটিকে শিবিরি অপতৎপরতার ‘সিমপ্যাথি নাটক’-এর পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাফিয়ার অতীত বিতর্কিত সংযোগ এবং তার শিবিরপন্থী পরিচিতি বিবেচনা করলে ঘটনাটি স্বার্থান্বেষীভাবে পরিকল্পিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সহানুভূতি আদায়ের জন্য পরিকল্পিত নাটকের ইতিহাস তাদের দীর্ঘদিনের কৌশল বলেও মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ধানমন্ডি ৩২–এ সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে—বঙ্গবন্ধুর বাড়িকে ধ্বংস করার বহুবারের প্রচেষ্টার পর ১৭ নভেম্বর রাতেও ধানমন্ডি ৩২-এর অবশিষ্ট অংশে বড় হামলার চেষ্টা হয়েছিল, যা ৫ আগস্টের পর প্রথমবার সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ঠেকাতে সক্ষম হয়।
এই প্রেক্ষাপটে রাফিয়ার বাড়ির ‘হামলা’-র গল্প সামনে আসায় অনেকেই মনে করছেন—এটি একই ধারাবাহিকতার অংশ, যেখানে গণসহানুভূতি, আলোচনায় থাকা এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য নাটক সাজানো হয়ে থাকে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “ঘটনার টাইমিং, বিস্ফোরণের ধরন ও অভিযোগ তোলার গতি—সবই ইঙ্গিত দেয় এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক নাটক হতে পারে। সিমপ্যাথি তৈরি করতে শিবির এ ধরনের ঘটনা অতীতে বহুবার করেছে।”
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে, তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, ভিডিও–প্রমাণ এবং রাফিয়ার পূর্বের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠছে জোরালোভাবে।
মন্তব্য করুন