Insight Desk
প্রকাশ : Nov 23, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যৌথ নোবেলে ইউনূসের একক রাজত্ব: অংশীদার তাসলিমাকে প্রতারণার জালে ফেলার চাঞ্চল্যকর আখ্যান

বিশেষ প্রতিবেদন

নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০০৬। কাগজে-কলমে এটি ছিল যৌথ পুরস্কার। এক অংশ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের, আরেক অংশ গ্রামীণ ব্যাংকের—যার প্রকৃত মালিক লক্ষাধিক দরিদ্র নারী। সেই নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে অসলোতে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন তাসলিমা বেগম। আজ প্রায় দুই দশক পরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। যৌথ নোবেলের নাম থাকলেও বাস্তব পুরস্কারটি পরিণত হয়েছে ড. ইউনূসের একচ্ছত্র ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং–এর অস্ত্রে, আর তাসলিমা হারিয়ে গেছেন বিস্মৃতির অন্ধকারে।

মঞ্চে ব্যবহার, দেশে ফিরেই বিতাড়ন:

২০০৬ সালের ১০ ডিসেম্বর অসলোতে নোবেল গ্রহণের মুহূর্তে ড. ইউনূস ও তাসলিমা বেগম ছিলেন একটি ফ্রেমে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমাকে কেবল সেই ফটোশুটের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছিল। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ২০০৭ সালে তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ বলা হয় ঋণের শর্ত ভঙ্গ। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি সাজানো সিদ্ধান্ত যাতে নোবেলের যৌথ দাবি কেউ আর সামনে তুলে ধরতে না পারে।

অনেকে মনে করেন, নোবেলের আলো ভাগাভাগি করার চেয়ে ইউনূস তাসলিমাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের একক ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

যৌথ অর্জনে একতরফা দখল: 

নোবেল পুরস্কারের সম্মান ও অর্থ ছিল যৌথ। কিন্তু বণ্টন হয়েছে একতরফাভাবে। তাসলিমা বেগম আজ রাজশাহীর পীরগাছা গ্রামে একটি জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিপরীতে, সেই যৌথ নোবেলকে ব্যবহার করে ইউনূস গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক বক্তৃতা, ফাউন্ডেশন এবং ব্যক্তিগত প্রভাবের এক বিশাল সাম্রাজ্য।

সমালোচকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানের নামে নোবেল পুরস্কার এল, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেই যখন অপমানজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন এই সম্মানের নৈতিক ভিত্তি কোথায়?

মিথ্যা অভিযোগে কণ্ঠরোধ?: 

তাসলিমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন আছে। যে নারী গ্রামীণ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক মুখ হিসেবে নোবেল মঞ্চে দাঁড়ালেন, তিনি হঠাৎ রাতারাতি অযোগ্য হয়ে গেলেন? নাকি তাকে সরানোর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করা হলো যে আর কোনোদিন যৌথ নোবেলের কথা আওয়াজ তুলতে না পারেন?
তাসলিমাকে সরানো অনেকের চোখে ছিল একটি ‘ক্লিন আপ অপারেশন’ যাতে নোবেল ইতিহাসে কেবল ইউনূসের নামই টিকে থাকে।

দুই পাশে দুই পৃথিবী: 

  • এক পাশে ইউনূস—বিশ্ব ভ্রমণ, বক্তৃতা, সম্মান।
  • অন্য পাশে তাসলিমা—দারিদ্র্য, অবহেলা, বিস্মৃতি।

এই বৈপরীত্যই বলে দেয় যৌথ নোবেলের গল্প কতটা অসম এবং কতটা নির্মম। তাসলিমা বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের প্রতীক। তাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলে নোবেলটিকে একক প্রচারের হাতিয়ার বানানোকে অনেকে বলছেন দরিদ্র নারীদের আবেগকে পুঁজি করা ‘করপোরেট প্রতারণা’।

এখন প্রশ্ন উঠছে:

  • নোবেল কি গ্রামীণ ব্যাংকের নাকি কেবল ইউনূসের
  • তাসলিমার নীরব মৃত্যু–সমতুল্য পতন কে দায় নেবে?
  • যৌথ পুরস্কারকে একক প্রচারে রূপ দেওয়া কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়?

তাসলিমার বর্তমান অবস্থা এই প্রশ্নগুলোরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশ্বের সামনে দরিদ্র নারীর প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়ানো সেই নারী আজ জীবন–সংগ্রামে হারিয়ে গেছেন, আর ইউনূস সেই যৌথ অর্জনকে নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাইকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুটে খাচ্ছে ইউনূস ও সমন্বয়কের

1

সত্য বলার লাইসেন্স কি এখন শুধু প্রেস সচিবের হাতে?

2

জুলাই আন্দোলন: গুজব, ষড়যন্ত্র আর দেশ বিক্রির কালো গল্প ফাঁস

3

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: লাশ গুমের পরিকল্পনা যমুনায়, মূল হোতা আ

4

জুলাই আন্দোলন: সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় জামায়াত

5

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার নেপথ্যে কী?

6

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

7

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনীতি স্থবির, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের

8

জুলাই: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের মাস

9

গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের চাপে এক পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃ

10

গোপালগঞ্জকে অশান্ত করতে এনসিসি ও ইউনূস গংয়ের পরিকল্পিত হত্যা

11

⁨সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ: ইসকনের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্ব

12

এবার দুর্নীতি করে ধরা খেল জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড মাহফ

13

‘ছয় মাসের বেশি টিকবে না—এসব শুনতে শুনতে ১০ বছর কাটিয়ে দিলাম’

14

মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির পর মাজারে বেড়েছে হামলা

15

মার্কিনিরা কোথায় বিনিয়োগ করেছে তা দেখাতেই আয়োজিত হচ্ছে রোহিঙ

16

আন্তর্জাতিক যুদ্ধবাজদের নতুন থিয়েটার বাংলাদেশ, ঝুঁকিতে সার্ব

17

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

18

ইউনূসের মদদে ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজত্ব; রুখব

19

শুল্ক নিয়ে জাতির চোখে ধুলা দিল ইউনূসের প্রেস সচিব

20