নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬০–৭২ ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। চুক্তির আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মোট মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
চুক্তি অনুযায়ী আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে। বিমান কর্তৃপক্ষ এটিকে বহর সংকট কাটানোর জরুরি সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অর্থনীতিবিদ আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ একে নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ঠিক আগে এত বড় অঙ্কের রাষ্ট্রীয় দায় সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। কারণ চুক্তির অর্থায়নে সরকার নিজেই ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে। ফলে বিমান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দায় সরাসরি জাতীয় কোষাগারের ওপর পড়বে। বর্তমানে বিমানের ঋণ-ইকুইটি অনুপাত শিল্পমানের তুলনায় অনেক বেশি, যা নতুন ঋণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়কাল নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুক্তির আর্থিক দায় কার্যকর হবে এখনই, কিন্তু উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হবে সম্ভাব্যভাবে ২০৩১ সালের অক্টোবরের পর। অর্থাৎ বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও এর বোঝা বহন করবে পরবর্তী সরকার, সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘ সময়।
নিরাপত্তা ইস্যুতেও উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দুর্ঘটনা ও তদন্তের কারণে বিশেষজ্ঞরা এই উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিও বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক এড়াতে বড় অঙ্কের মার্কিন পণ্য আমদানিকে কূটনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন চুক্তি করে ইউনুস গং মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষক আলোচকরা।
নির্বাচনের মুখে এই চুক্তি এখন কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন