নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ঘিরে দেশে নতুন করে সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এই আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা থাকলেও “বাস্তবায়ন আদেশ” নামে আলাদা কোনো কাঠামো তৈরির সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্ট নয়। তার মতে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মৌলিক বিষয় সংযোজন করা হলে তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় তা সাংবিধানিক সঙ্গতি হারায়।
দ্বিতীয় শপথ যুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে দ্বিতীয় একটি শপথ সংযোজন করা হয়েছে, যার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার বক্তব্য, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তপশিলে শপথের নির্ধারিত নমুনা রয়েছে। আলাদা আদেশ দিয়ে বিকল্প বা অতিরিক্ত শপথ যুক্ত করা হলে তা সংবিধানের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আইনজীবীদের মতে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা কোনো সাধারণ আদেশের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যায় না।
গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির গেজেট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। রিটে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন স্থগিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, একটি বিস্তৃত ও স্পষ্ট আইনগত কাঠামো, নিরপেক্ষতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিধান ছাড়া গণভোট আয়োজন সাংবিধানিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যে কোনো গণভোটের আগে স্পষ্ট আইনগত কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্তর্বর্তী সরকারসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গ তার অধীন। শপথগ্রহণ একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা; এর বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখন নজর উচ্চ আদালতের দিকে। আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান।
মন্তব্য করুন