নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতির বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে—বিএনপি, এনসিপি ও ইউনূস ঘনিষ্ঠদের বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ কি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশলের অংশ?
জনপ্রিয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা—দ্বিমুখী চিত্র
ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন তা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ৪৮ শতাংশের বেশি ভোটার। এছাড়া ১৪.৪ শতাংশ উত্তরদাতা ভোটের পছন্দ জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তহীনতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর দলের সমর্থকদের মধ্যে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, “এমন পরিস্থিতিতে ভোট হলে তা সহজেই বিতর্কিত হয়ে পড়বে, কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটারই এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।”
বিদেশি যোগাযোগের ধারাবাহিকতা
সম্প্রতি কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গোপন বৈঠকের খবর আলোচনায় আসে। এরপর নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গেও এনসিপির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন।
এর আগে গত মাসে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের খবর পাওয়া যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব যোগাযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
জামায়াতের অবস্থান ও ইসির পরিবর্তন
জামায়াত ইতোমধ্যে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময় নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে ‘না’ ভোটের বিধান পুনঃচালু, ইভিএম-সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল এবং কমিশনের ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার ‘না’ ভোট চালু হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি বাতিল করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আভাস
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সিদ্ধান্তহীনতা—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার সুযোগ নিতে চায় বিরোধীরা। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক এবং নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত—দুটোই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন