Insight Desk
প্রকাশ : Sep 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীজুড়ে ‘ব্লক রেইড’ ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ, অবিলম্বে বন্ধের দাবি আওয়ামী লীগের

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির অভিযোগ, গুলশানে সাম্প্রতিক মিছিলের পর রাজধানীর একাধিক এলাকায় ‘ব্লক রেইড’ চালিয়ে সাধারণ মানুষ ও দলটির নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলশানে সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। দলটির ভাষ্য, ওই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে এবং এর পরপরই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়েছে।

বিবৃতিতে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা ও ঢাকা সেনানিবাসসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি ও হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দাবি, এসব অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রেপ্তার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তবে গুলশানের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় ও সংখ্যা, মিছিলের সঙ্গে পরবর্তী পুলিশি অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের বর্ণিত সব এলাকায় ‘গণগ্রেপ্তার’ চালানোর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তথ্য এই বিবৃতিতে উপস্থাপন করা হয়নি।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, কারখানা বন্ধ, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং চাকরিচ্যুতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়ার অভিযোগও তুলেছে দলটি।

আওয়ামী লীগের বক্তব্য, মানুষের অসন্তোষ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দলটি দাবি করেছে, ভয়ভীতি ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রতিবাদ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশেও বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক নির্দেশে সাধারণ মানুষের ওপর হয়রানি বা দমনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলটি বলেছে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন ও পেশাগত নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন।

বিবৃতির শেষাংশে আওয়ামী লীগ অবিলম্বে ‘গণতল্লাশি’, ‘গণগ্রেপ্তার’ ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে দলটি বলেছে, তারা জনগণের পাশে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই দাবিগুলোর বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট দেবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূসের রাষ্ট্রীয় দুর্বলতায় বাড়ছে মন্দিরে হামলা; জঙ্গিবাদের

1

কোটা নয়, প্রতারণা! অযোগ্য এনসিপি নেতার লাখ টাকার চাকরি

2

দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি ১,৩১১ আগ্নেয়াস্ত্র, বেহাত আড়াই লাখের ব

3

বাংলাদেশে চলছে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, ডাকাতি ও মবের রাজত্ব

4

নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে নিশ্চুপ বিতর্কিত মার্কিন নাগরিক আলী রিয়

5

শেখ হাসিনার কথাই সত্যি হলো, নিজেদের দোষ অকপটে স্বীকার করলেন

6

শেখ হাসিনার ‘চক্ষু রাঙানি উপেক্ষা’ বনাম বর্তমান সরকারের ‘অনু

7

বাংলাদেশে আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক বড় হচ্ছে, জঙ্গি আবদুল্লাহ ম

8

চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধের হুমকি: নতুন ট্যারিফে ক্ষোভে ব্যবসায়ী

9

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে জাতিকে ঘোল খাওয়াচ্ছেন প্রেস সচিব

10

দেশজুড়ে বাড়ছে হত্যা-ধর্ষণ, আতঙ্কিত মানুষ

11

নির্বাচন সামনে রেখে জানুয়ারিতে সহিংসতা দিগুণ, মানবাধিকার পরি

12

নতুন সরকার 'সামন্তবাদী চর্চা’ নিয়ে সমালোচনা

13

হোটেল ওয়েস্টিনে নাগরিকমৃত্যু নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মিথ্যা

14

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের ছায়া কি আবার

15

ইউনূসের আমলে সুইস ব্যাংকে রেকর্ড অর্থ জমা, বেড়েছে ৩৩ গুণ

16

নাহিদ ইসলাম ছাত্রলীগ দিয়ে দল বড় করতে চায় - আবদুর নুর তুষার

17

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রত

18

মুদি দোকানে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল সাড়ে ১৩ লাখ টাকা!

19

জেলে ঠাঁই নেই, তাই সেনানিবাসেই নতুন কারাগার!

20