২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চা বিক্রির কারণে পরিচিতি পেয়েছিলেন মহিউদ্দিন রনি। তাঁর পারিবারিক আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে, যেখানে তাঁর বাবাকে দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রনি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতির পাশাপাশি গাড়ির ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন।
চা বিক্রেতা থেকে রাজনৈতিক নেতা, এরপর গাড়ির ব্যবসা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তাঁর ব্যবসার মূলধন নিয়ে। গাড়ির ব্যবসায় বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে এলো? নিজের অর্থে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বিনিয়োগকারী রয়েছেন? প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রকৃত মালিকানা কতটুকু?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসাটিকে ‘শত কোটি টাকার’ বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এই অঙ্কের পক্ষে নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি প্রকাশ্যে না থাকায় সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু ব্যবসার প্রকৃত আকার, মালিকানা ও অর্থের উৎস প্রকাশ করা হলে এসব দাবির সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হবে।
একজন দারোয়ানের সন্তান কিংবা চা বিক্রেতার বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা অবশ্যই অপরাধ নয়। বরং বৈধ আয়, পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা সাফল্যের মাধ্যমে এমন পরিবর্তন ঘটলে সেটি ইতিবাচক গল্পও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা পেশা বা পারিবারিক পরিচয় নিয়ে নয়, প্রশ্নটা অর্থের উৎস নিয়ে।
বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সম্পদের জবাবদিহির কথা বলে সামনে এসেছে, তখন তাদের নিজেদের ব্যবসা ও সম্পদের ক্ষেত্রেও একই স্বচ্ছতা প্রত্যাশিত।
তাই প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে, টিএসসির চা বিক্রেতা থেকে গাড়ি ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পেছনে বিনিয়োগের প্রকৃত উৎস কী? আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিপুল অঙ্কের ব্যবসার দাবি সত্য হলে, মাত্র দুই বছরে সেই অর্থ এলো কোথা থেকে?
মন্তব্য করুন