নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক গণভোটের ফলাফল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ঘোষিত ফলাফলে একাধিক আসনে এমন পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে প্রদত্ত ভোট।
রাজশাহী–৪: ভোটার ৩ লাখ, ভোট পড়েছে ৭ লাখের বেশি?
সমালোচকদের দাবি, রাজশাহী–৪ আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। অথচ গণভোটে প্রদত্ত ভোট দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩, যা শতকরা হিসাবে ২০০ শতাংশেরও বেশি। এ আসনে জামাত সমর্থিত প্রার্থী আবদুল বারী সরদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সিরাজগঞ্জ–১: একই দিনে ভোটার উপস্থিতিতে বড় পার্থক্য
সিরাজগঞ্জ–১ আসনে সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে উপস্থিতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৯৯ শতাংশ। এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা। পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, একই ভোটকেন্দ্রে একই দিনে এমন তীব্র পার্থক্য কীভাবে সম্ভব।
নেত্রকোনা–৩, ৪ ও ৫: ‘হ্যাঁ’ ভোটই ছাড়িয়েছে মোট ভোটার সংখ্যা
নেত্রকোনা–৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ জন হলেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮। এ ধরনের অসামঞ্জস্য নেত্রকোনা–৪ ও ৫ আসনেও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকরা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘পূর্বনির্ধারিত ফলাফল’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, কোথাও ২০০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি, কোথাও আবার অস্বাভাবিকভাবে কম ভোট দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন