আড়াই বছর আত্মগোপনে থাকার পর নিজ বাড়িতে ফিরেছিলেন কুমিল্লার মুরাদনগরের যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন (৪০)। কিন্তু বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও মব হামলার মতো বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ উঠে আসছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মুরাদনগরে যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন হত্যার ঘটনা ঘটল। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সমর্থক ছিলেন। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে পরাজিত হন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় আড়াই বছর ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে গোপনে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন। মোমেনা বেগমের ভাষ্য, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এলাকায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাতেও বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
মন্তব্য করুন