নিজস্ব প্রতিবেদক | পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে নিহত ইদ্রিসের স্বজনরা লাশ নিয়ে থানায় গেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন ইদ্রিস। ওই পোস্টের পর থেকেই জহিরুল ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। কয়েকদিন আগে ঢাকায় কাজ শেষে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন ইদ্রিস। এরপরই তার প্রতি আক্রোশ আরও বেড়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইদ্রিস স্থানীয় পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ও তার কয়েকজন অনুসারী তাকে জোর করে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেওয়া হয়। তবে সোমবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইদ্রিস তার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি বা তার কোনো লোক ইদ্রিসকে মারধর করেননি এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেসবুক পোস্টের মতো একটি বিষয়ে একজন মানুষকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করার ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন তারা।
মন্তব্য করুন