নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অভিযোগ উঠেছে, অতীতের মতো এবারও ফান্ড তুলে তা নিজ মদদপুষ্ট রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’-র সহায়তায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি।
সোমবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বৈমানিকসহ ৩১ জন নিহত ও শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার তৎপরতায় নামে। আহতদের দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও অন্যান্য কাছাকাছি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘Chief Adviser GOB’ থেকে একটি পোস্টে ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, "মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যারা অর্থ সাহায্য করতে চান, তারা উপরোক্ত ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অর্থ জমা দিতে পারেন।"
প্রদত্ত ঠিকানা ছিল: হিসাবের নাম: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল। চলতি হিসাব নম্বর: ০১০৭৩৩০০৪০৯৩। ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় কর্পোরেট শাখা।
তবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, এটি আসলে পূর্বপরিকল্পিত অর্থসংগ্রহের ফাঁদ। সমালোচনার মুখে দ্রুত পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয় পেজটি থেকে।
সূত্র জানায়, ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময়ও একই কৌশলে এনসিপি'র জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ড. ইউনূসের তত্ত্বাবধানে একটি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা উত্তোলিত হয়—যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি ছিল ঘর নির্মাণ, বাঁধ মেরামত এবং আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে—সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
এনসিপি-র দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন, সংগ্রহকৃত অর্থের একটি বড় অংশ ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ১৬ কোটি টাকার অডিট রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। তবে তিনি নিজ মুখেই স্বীকার করেন, “দুই-তিন লাখ টাকার হিসাব দেওয়া যায়নি।” এমনকি আরও সরাসরি বলেন, “হ্যাঁ, কিছু টাকা হয়তো লোপাট হয়েছে।”
এ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা বলেন, “আগে যিনি টিউশনি করে সংসার চালাতেন, এখন তিনি বিএমডব্লিউ নিয়ে ঘোরেন।” অনেকে মনে করছেন, গণতহবিলের অর্থে ব্যক্তিস্বার্থেই গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল জীবনযাপন।
গতকালকের বিমান দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য সহানুভূতি ও সাহায্যের আহ্বান স্বাভাবিক হলেও, পূর্বের দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন। ফলে ফান্ড কালেকশনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন