Insight Desk
প্রকাশ : Jul 17, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারায় ইউনূস গং

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বুধবার (১৬ জুলাই) সাধারণ জনগণের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সূত্র বলছে, দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর পরিকল্পনা থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সমন্বয়কেরা। 

এনসিপির গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রা ও সমাবেশ নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে এনসিপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির প্রচার চালানো হয়। বুধবার নেতারা গোপালগঞ্জে পৌঁছাতে গেলে বিভিন্ন স্থানে বাধা, পাল্টা হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়ি ও ইউএনওর যানবাহনেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোপালগঞ্জ সভা শেষে ফেরার পথে সাধারণ মানুষ এনসিপির গাড়িবহরে বাধা দিলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ-আর্মি নিরাপত্তা দিতে না পারলে যুদ্ধ ঘোষণা করবো।

এই সংঘর্ষের পরদিন ফরিদপুরে সমাবেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গোপালগঞ্জকে চিরতরে মুজিববাদ মুক্ত করতে মার্চ করা হবে। তিনি জানান, তাঁর দল আবারও গোপালগঞ্জ সফরে যাবে। 

এর আগে গত অক্টোবরে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নাহিদ বলেছিলেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার গণহত্যা চালালে এবং বিজয় অর্জন না হলে সশস্ত্র সংগ্রামের ভিডিও বার্তা দিতেন তিনি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, গৃহযুদ্ধের পূর্ববর্তী মুহূর্তে একটা ‘সামাল দেওয়া’ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। কিন্তু এ যুদ্ধ তো হবেই কোনো না কোনো ফরমেটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এইসব কথাবার্তা এবং সহিংস কর্মকাণ্ড একটি গৃহযুদ্ধের পূর্বাভাস দেয়।

‘রিসেট বাটন’ ও অঘোষিত যুদ্ধ

গত বছরের ৫ আগস্ট, সরকার পতনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে নিউইয়র্কে ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা রিসেট বাটন চাপেছি। অতীত চলে গেছে, এখন নতুনভাবে দেশ গড়তে হবে।”

এই ‘রিসেট বাটন’–এর বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ‘অঘোষিত যুদ্ধ’-এর সূচনা। এই যুদ্ধ বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের আত্মা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত।

৫ আগস্ট থেকেই এই সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক কর্মীদের গুম ও হত্যা, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারকগুলোতে হামলা—সবই এই অঘোষিত যুদ্ধের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কৌশলের সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক মদদ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

এনসিপির কর্মকাণ্ড এবং ইউনূসপন্থী রাজনৈতিক ছক নিয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। বিভিন্ন সূত্র বলছে, আমেরিকান ডিপ স্টেটের আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তায় বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করার লক্ষ্যেই কাজ করছে এই গোষ্ঠী। তাদের উদ্দেশ্য—মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পুনরায় রাজনীতির মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা, এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়ে একটি জাতিবিরোধী শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য “ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি” নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং আলোচনার নামে দেশকে বিদেশি স্বার্থে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পহেলা আগস্ট থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫% পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইউনূসের কাছে একটি বার্তাও পাঠিয়েছেন। এই অর্থনৈতিক চাপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস খোলার সিদ্ধান্তও ‘ভবিষ্যৎ হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র প্রস্তুত’ করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে

কয়েকজন বিশ্লেষক এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল নিয়ে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আগেই এই বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন। জাতিসংঘ অফিস, চট্টগ্রাম বন্দর, মানবিক করিডোর ইত্যাদি—সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশ যেন কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সহিংসতার পুনরাবৃত্তি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার অপচেষ্টা এবং অঘোষিত এক 'অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ'—এসবের পেছনে কি শুধুই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, নাকি এটি বৃহৎ একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয়, এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে এক বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা, যা বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কৌশলগত গুরুত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। 

বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন প্রশাসন তাকে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব বিস্তার এবং চীনের প্রভাব রোধের অংশ হিসেবেই তাঁকে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাধা সৃষ্টি ও দেশজুড়ে অস্থিরতা—সবই এই মহাযুদ্ধের অংশ।

বাংলাদেশ আজ এক গভীর ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রস্থলে। এই ষড়যন্ত্র কেবল রাজনীতি নয়, এটি রাষ্ট্র ও জাতির অস্তিত্ব ঘিরে। ‘গৃহযুদ্ধ’ শব্দটি অনেকের কাছে অতিরঞ্জন মনে হলেও বাস্তবতা বলছে—অঘোষিত সেই যুদ্ধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এর পেছনে যারা আছে, তারা কেবল দেশি নয়—বিদেশি স্বার্থনির্ভর, চতুর, ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় চলমান।

এখন প্রশ্ন একটাই; বাংলাদেশে এই যুদ্ধ করা বাধাচ্ছে তাদের কি চিনতে পারছে? নাকি দেশের জনগণ সবাই ধীরে ধীরে একটি গভীর খাদে ঢুকে পড়ছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সারজিস আলমরা নব্য মোস্তাক, বললেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

1

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে জাতিকে ঘোল খাওয়াচ্ছেন প্রেস সচিব

2

চাঞ্চল্য ছড়ানো বিদেশি নথি ফাঁস: ড. ইউনূসকে ঘিরে প্রশ্ন, লবিং

3

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ইউনূস ব্রিগেডের নীলনকশা

4

হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল: ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনা দায়ি বলে

5

মার্কিন ‘কটন ক্লজে’ চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, খরচ বাড়ার আ

6

শেখ হাসিনার উন্নয়ন এখনো চোখে পড়ে, ধ্বংসচেষ্টা পরিকল্পনা কর

7

দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারায় ইউনূস গং

8

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন দেশে সংকট ডেকে আনবে

9

কারাগারে চিকিৎসাহীনতায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: রাষ্ট্রীয় নি

10

জরিপ: ভোট দিতে যাবেন না ৮৭ ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থক, ৯২ ভাগের স

11

ইউনূস সরকার মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ : এইচআরডব্লিউ

12

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কিভাবে ত্বরান্বিত হলো?

13

দুদকের অনুসন্ধানে ১০০ কোটির প্রকল্প ও ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব

14

সীতাকুণ্ডে শ্যামাপূজার মণ্ডপে সাংবাদিকের ওপর সাম্প্রদায়িক হা

15

নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ফের আলোচনায় স্বাধীনতাব

16

শ্রমিকের পেটে লাথি মারতে দৃশ্যপটে আবারও হাজির বিএনপি-জামাত গ

17

অক্টোবরে ২৩১ নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার: উদ্বেগজনক চিত্

18

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তাল ময়মনসিংহে

19

দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ল? ইউনূস সরকারের সময়কালে

20