Insight Desk
প্রকাশ : Sep 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিবির-ছাত্রদল উত্তেজনার মধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ইবিতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে ইবি শাখার ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

একই দিনে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একদিকে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে আধিপত্য ও বিরোধের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

শনিবার দুপুরে কাজী জুহায়ের হলে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হলের করিডোরে শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক কর্মী চড় মারেন। কী কারণে ওই ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এরপর অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তাঁর কক্ষ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্ট ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ছাত্রদলের নেতারা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। কারা এই ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল এলাকা থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে শহীদুল ও বাবলু নামে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়।

দিনভর এই উত্তেজনার মধ্যেই রাতে আসে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার খবর।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং তাদের মধ্যকার বিরোধ যখন বারবার সামনে আসছে, ঠিক সেই সময়ে ইবিতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংগঠনটির সমর্থকেরা।

তাদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে ছাত্রলীগ আবার সাংগঠনিকভাবে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, ছাত্ররাজনীতির বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আরেকটি সংগঠনের সক্রিয়তা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করবে, নাকি সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।

বিশেষ করে ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হওয়ায় প্রকাশ্যে কমিটি ঘোষণা এবং সেই কমিটির সম্ভাব্য কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এদিকে শনিবারের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন আরও কঠোর হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নতুন করে যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশি অবস্থানও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

একই দিনে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ এবং ছাত্রলীগের নতুন কমিটি—দুটি ঘটনা মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে এখন নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে: ক্যাম্পাসে কি নতুন ‘পাওয়ার ব্যালেন্স’ তৈরি হতে যাচ্ছে, নাকি শুরু হচ্ছে ছাত্ররাজনীতির আরেকটি সংঘাতপূর্ণ অধ্যায়?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক-ইউনূস বৈঠকের পর বিএনপিতে বেড়েছে মব সন্ত্রাস

1

ভয়ের মাঝে একুশের চেতনা, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি

2

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: লাশ গুমের পরিকল্পনা যমুনায়, মূল হোতা আ

3

সেনাবাহিনীতে আরও ৬ কর্মকর্তার রদবদল

4

যোগ্যতায় রিটেন পাস করতে হবে, ভাইভায় ইনশাআল্লাহ সাহায্য করবো’

5

নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র স্কুলে আগুন, শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই

6

সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে ইউনূস গংদের নিলনকশা: মুক্তি দেওয়া হচ

7

ধ্বংস করতে কেন শিশুদের হাতে দেশকে ছাড়লেন সেনাপ্রধান

8

এবার দুর্নীতি করে ধরা খেল জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড মাহফ

9

ইউনূসের ছত্রছায়ায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের গোপন রাজনৈতিক প্রকল্প

10

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ড. ইউনূসের অনৈতিক সুবিধা

11

বেপোরোয়া জুলাই যোদ্ধারা, মবের নামে ফের কণ্ঠরোধ

12

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দেখে নতুন ষড়যন্ত্রে দেশবিরোধীরা

13

হাসিনার চেয়েও বিএনপি কে বেশি ভয় পাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি :গোলাম

14

প্রেস সচিবের মিথ্যাচার এবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মালয়েশ

15

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইস্যু: ভারতকে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের, দিল্ল

16

সত্য বলার লাইসেন্স কি এখন শুধু প্রেস সচিবের হাতে?

17

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা, এবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করল আরব আমি

18

সামরিক নির্ভরতার ফাঁদ ও ৫ আগষ্ট

19

‘ছয় মাসের বেশি টিকবে না—এসব শুনতে শুনতে ১০ বছর কাটিয়ে দিলাম’

20