নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ক্রমেই বেড়েই চলছে, যার পেছনে রয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের পরিকল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করলেও ইউনূস এটি একটি কৌশলগত চাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে সমন্বয়ে ইউনূস গোষ্ঠী যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে দিতে চাইছে, যেখানে বিপথগামী হয়েছেন বিএনপিও।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব সমাবেশে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ঘোষণা দেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। এ সময় নির্বাচন হলে সংস্কার ও নতুন সংবিধানের জন্য শহীদদের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সিস্টেমে নির্বাচন হলে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিচারের পরই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা শোভনীয় হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাইযোদ্ধাদের ক্রিমিনালাইজেশন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির জন্য বাংলাদেশে কোনো জায়গা নেই।”
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় পিছানোর জন্য মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১১ দিনে অন্তত ১৪টি গণপিটুনির ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএফএস) জানিয়েছে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গণপিটুনিতে ৭৯ জন নিহত হয়েছেন, যার সঙ্গে আগস্টের ঘটনাগুলো যুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৮ এবং আহত হন ২৬৬ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, একই সময়ে মব সন্ত্রাসে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকটিতে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
১১ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গীতে মোবাইল ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে এক ২২ বছর বয়সী যুবক গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়রা তাকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
৯ আগস্ট রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চোর সন্দেহে রূপলাল দাস ও তাঁর জামাই প্রদীপ দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে মাদারীপুরে চোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে একজনের চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এই অধিকাংশ ঘটনার পেছনে চোর ও ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা রয়েছে, বাকিগুলো চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের কারণে সংঘটিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা শক্তির নির্দেশে ইউনূস গোষ্ঠী দেশকে সিরিয়া-ইরাকের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে পরিণত করতে চাচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক করিডোর, বন্দর ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা সহজেই দখল করতে পারবে। এভাবেই চীনের প্রভাব কমানো হচ্ছে এই অঞ্চলে। মার্কিন প্রেসক্রিপশনের অংশ হিসেবে দেশকে বিভক্ত করার এবং গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
অবশ্যই, ইউনূসের এই ফাঁদে বিএনপিও জড়িয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি এবং নানা অপকর্মে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা লক্ষণীয়। মার্কিন দফতরগুলোর নির্দেশে এনসিপি ঘন ঘন রাষ্ট্রদূতদের সামনে ধরনা দিয়ে এই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুধু অভ্যন্তরীণ কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে না, বরং এটি একটি সংগঠিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা বলছেন, “ইউনূস ও তার সহযোগীদের কার্যক্রম শুধু দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি অবজ্ঞা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নির্বাচন পেছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ ধরনের অবস্থা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন