নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পর গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এনসিপি নেতাদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহর থেকে বের হতে না পেরে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিল্ডিংয়ের ভেতর প্রবেশ করে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর এপিসি গাড়িতে করে পালিয়ে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমরা।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, “গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এসময় জেলা ছাত্রলীগের নেতা দীপ্ত সাহাসহ সাতজন নেতাকর্মীকে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের এই নৃশংসতা বাংলাদেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুরুতেই ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে জনসাধারণকে প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। তবে না পেরে তারা পিছু হটেন। পরে আবার তারা ঘটনাস্থলে এসে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি ছুড়তে থাকে। এছাড়া সরিয়ে স্থানীয় জনতাকে দিতে উপস্থিত শতাধিক পুলিশ সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তেও দেখা গেছে।
এনসিপির গোপালগঞ্জের পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে সামাজিকমাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফেসবুকে এনসিপির নেতারা ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে পথে বাধা পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ পুলিশ ও ইউএনওর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন