নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের প্যানেল। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদেও (জাকসু) সুবিধাজনক অবস্থানে দলটি। জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে জিএসসহ ২১টি পদে শিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের ২৩টিতেই জিতেছে ছাত্রশিবিরের প্যানেল। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে দেশবিরোধীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচনে জিতে যাচ্ছে। যেখানে এর আগে কখনও তারা এসব নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেনি।
সূত্র বলছে, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলোতে শিবিরকে জেতানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইউনূসের। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের নিয়ন্ত্রণ থাকলে তারা জামায়াতের পিআর পদ্ধতির জন্য হওয়া আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারবে। এতে করে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। আর এভাবেই নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চাইছে ইউনূস।
নির্বাচনের আগে পিআর নিয়ে তৎপর হচ্ছে জামায়াত ও দেশবিরোধীরা
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, পিআর পদ্ধতি আদায় করেই জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আয়োজিত স্থানীয় মডেল মসজিদের হলরুমে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
একই দিন আলাদা এক অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।
দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ চার দফা দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচিতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি রাজনৈতিক দল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অবিলম্বে দলগুলো পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করবে। অর্থাৎ এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নির্বাচনের আগে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত ও দলটির দোসররা
জাহাঙ্গীর নগরে শিবিরকে জেতাতে শিক্ষককে মেরে ফেলল সরকার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনা কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে অসুস্থ হয়ে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ভোট গণনার কক্ষের দরজার সামনে হঠাৎ পড়ে যান তিনি। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সূত্র জানায়, ভোট গণনার সময় জামায়াতপন্থী প্রার্থীকে জেতাতে চাপ প্রয়োগের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই শিক্ষক।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে শিবিরকে মাঠে নামাচ্ছেন। যদি সত্যি হয়, তবে এটি রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ জামায়াতের অতীত ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনকে ব্যবহার করলে গণতন্ত্র ও শিক্ষা পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মন্তব্য করুন