নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় দুটি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলিস্টার জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা যে অংশে ভোট দেন, সেখানে ঢোকেন আবিদ। এ ঘটনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে এবং সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
এ খবর যখন প্রচারিত হয় তখন সবে ভোট শুরু। আর এর জের পরে ডাকসুর ফলাফলে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের এই মিথ্যা প্রচারণার সুযোগ নেয় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির। তারাও বিভিন্নভাবে এই খবর বট বাহিনীর মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবিরের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি হয়। যেখান থেকে তাদের পক্ষে বিপুল ভোট পড়ে।
ভোটের পর এক ফেসবুক পোস্টে আবিদ জানান, ভোটের দিনের শুরু থেকেই মিডিয়ার অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন তিনি। ছাত্রদলের এই প্রার্থী বলেন, এই নির্বাচনে আমার দিনটা শুরু হয় মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে। দুপুর থেকেই আমি ভোটে বিভিন্ন যায়গায় একের পর এক সমস্যা খুঁজে পেয়েছি, সারাটা দিন সেসব নিয়ে কথা বলেছি। এই সমস্ত অভিযোগের একটা সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসবে বলে এখনো আশা রাখি।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের আগেও যখন ছাত্রদল মিছিল বের করে তখনও প্রথম আলো-ডেইলি স্টার সেটিকে চটকদার হেডলাইন দিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলকে দোষী বানানোর চেষ্টা করে। তারা প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে আছেন। এতে মনে হয় বিএনপি ক্যাম্পাসে তাণ্ডব তৈরি করার প্রস্তুতি নিয়ে গেছে সেখানে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অভিনব পন্থায় কারচুপি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, নিজেদের হীনস্বার্থের জন্য ইসলামি ছাত্রশিবির জাতির সাথে কী পরিমাণ বেঈমানি করেছে তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। এটিও সেই ডেইলি স্টার-প্রথম আলোর প্রতি ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ডেইলি স্টার-প্রথম আলোর ঘেরাও শুরু করে উগ্রপন্থীরা। সেখানে মতি নামের গরুও কাটা হয়। এরপরই এই দুই প্রতিষ্ঠান জামায়াতের প্রতি ঝুঁকতে থাকে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য। আর এ পুরোটাই ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে জয় পেল দেশবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির। স্বাধীনতার পরে এই প্রথমবারের মতো ভোট জালিয়াতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে এল শিবিরের হাতে।
আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী স্বীকৃতি পাওয়া দলটি ডাকসু জেতায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, নির্বাচনে জয়ের আগেই নানাভাবে নারীদের চরিত্র হনন করেছে এই দলটি। নারীদের গণধর্ষণের হুমকিও দিয়েছে তাদের সমর্থকেরা। এখন তারা ক্ষমতায় গেলে কী হবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের শঙ্কা বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন সবসময়ই ছিল দেশের জাতীয় রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এবারকার নির্বাচনে যেভাবে জালিয়াতি, দখলদারিত্ব আর কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, তা শুধু ডাকসুর গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং গোটা জাতির ভবিষ্যৎকেও সংকটে ফেলেছে।
মন্তব্য করুন