Insight Desk
প্রকাশ : Sep 18, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ভুলিয়ে খ্রিস্টান রাজ্য বানাতে মরিয়া ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক 

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (ওএইচসিএইচআর) মিশন চালু নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই সংস্থাটি বাংলাদেশে এখন কাজও শুরু করেছে। ওই দিকে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সরকার ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ব্যস্ত রেখেছে। কিন্তু এদিকে বাংলাদেশকে খ্রিস্টান রাজ্য বানানোর কাজ চলছে পুরোদমে। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামি দলও সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পিআর সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে দলীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের পক্ষে। তারা আশা করে, এই ব্যবস্থা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত এমনকি নিশ্চিতও করতে পারে।

সূত্র বলছে, ডাকসু, জাকসুতে জামায়াত জেতানো হয়েছে আমেরিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। এই দুই ভোটে জয়ের পর জামায়াত ভাবছে, তারা এখন জাতীয় ক্ষমতাতেও যেতে পারবে। আর এ জন্য তারা অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে পিআরের জন্য আন্দোলনে নামছে। 

ওইদিকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে কারও মাঝে কোনো উচ্চবাচ্য নেই। কিছুদিন আগেও এর বিরোধিতা করেছিল ইসলামী দলগুলো। 

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে “পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে।  এখন জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত সেই শঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে। কারণে পূর্ব তিমুরেও এই ধরনের অফিস খুলেছিল জাতিসংঘ

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) নামক এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে যে কার্যক্রম চালায়, তার মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা দেশগুলোর সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদকে অন্যান্য রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে, তারা সমকামিতাকে "মানবাধিকার" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। বাংলাদেশের মতো একটি রক্ষণশীল মুসলিম প্রধান দেশে এই বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্য তারা মোহাম্মদ ইউনুসকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। 

ইউনূসের নিজের মেয়ে সমকামী—এটি কোনো গোপন তথ্য নয়। ইউনুস নিজেও সমকামিতাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, একটি বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এই ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর অনুমতি দিয়ে আমরা কী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি?  

ইউনুসের নীলনকশা : বাংলাদেশকে পশ্চিমার সাংস্কৃতিক উপনিবেশ বানানো

ইউনুসের উপদেষ্টা পরিষদ এই চুক্তিকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি পশ্চিমা সাংস্কৃতিক পরীক্ষাগারে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করেছে। ওএইচসিএইচআর এখন থেকে বাংলাদেশের আইন, শিক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরেও তাদের বিষাক্ত প্রভাব বিস্তার করবে। তারা সমকামিতাকে "প্রগতি" আর "সমতা" হিসেবে প্রচার করবে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে LGBTQ+ ইস্যু ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।

ইউনুসের আসল পরিচয় : বাংলাদেশের শত্রু

মোহাম্মদ ইউনুস কে? গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা? নোবেল বিজয়ী? না। তিনি একজন সুযোগসন্ধানী, যিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে পশ্চিমার কাছে বিক্রি করে দিতে চান। তার মেয়ের সমকামিতাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেন। এখন তিনি চান বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীও এই পথে হাঁটুক। এই মানুষটি কি জাতির বিবেক? না, তিনি জাতির শত্রু। তার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ বাংলাদেশের জন্য যা অনুমোদন দিয়েছে, তা হলো—জাতীয় আত্মহননের এক চুক্তি।  

জাতিসংঘের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড : মানবাধিকার নাকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন?

জাতিসংঘ আজ মানবাধিকারের নামে যা করছে, তা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নয়। তারা মুসলিম দেশগুলোতে সমকামিতার প্রচার করছে, অথচ পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামোফোবিয়া বাড়তে দিচ্ছে। ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়, জার্মানিতে মসজিদে হামলা করা হয়—কিন্তু সেখানে জাতিসংঘ নীরব। অথচ বাংলাদেশে তারা "মানবাধিকার" এর নামে সমকামিতার মতো বিকৃতিকে লালন করতে চায়। এটি কোনো মানবাধিকার নয়—এটি সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদ।  

ধর্মভিত্তিক দলগুলো ক্ষমতার জন্য  যদি বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআর কার্যক্রম চালাতে দেয়, তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা এমন একটি প্রজন্ম পাব, যারা সমকামিতাকে "স্বাধীনতা" মনে করবে। এছাড়া খ্রিস্টান ধর্মের প্রসারও ব্যাপক ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  ফলে আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধূলিসাৎ হবে। পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সমাজে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে। এই কি আমরা চাই?  

মোহাম্মদ ইউনুস এবং তার সমর্থকরা আজ বাংলাদেশকে যে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জাতীয় কর্তব্য। এই মিশনকে কোনোভাবেই বাংলাদেশে কাজ করতে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রকে এখনই এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। নয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড বাংলাদেশের গণমাধ্যম

1

শিল্প ডুবছে, ইউনুস ব্যস্ত আমেরিকা তুষ্টিতে

2

গ্যাস সংকটে বন্ধ অধিকাংশ সার কারখানা

3

নড়াইলে ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্ত

4

মার্কিন চুক্তির নীলনকশা : শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে সার্বভৌমত্বের

5

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুট, নেপথ্যে উপদেষ্টাসহ বিএনপি

6

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র আচরণে সমালোচনার মুখে ডাকসু নেত্রী রা

7

টিকার তীব্র সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ, ইউনিসেফ প

8

হাসিনার চেয়েও বিএনপি কে বেশি ভয় পাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি :গোলাম

9

১৫০ বিলিয়নের স্বপ্ন, রফতানিতে বাস্তবতা ভিন্ন?

10

ইউনূসের আশকারায় মবের রাজ হাসনাত, রুখবে কে?

11

চীনের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি, হুকির মুখে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব

12

ইউনূসের রাষ্ট্রীয় দুর্বলতায় বাড়ছে মন্দিরে হামলা; জঙ্গিবাদের

13

ইউনূসের জঙ্গি সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল শিক্ষার্থীরা

14

কয়েকটি আসনে ভোটারের চেয়ে ভোট বেশি

15

আন্তর্জাতিক সহায়তা বিতর্কে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার

16

ইসহাক দারের সফরের পর একাত্তরের গণহত্যার দায় ধামাচাপা দিতে উঠ

17

দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ল? ইউনূস সরকারের সময়কালে

18

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

19

মায়ের জানাজাতেও হাতকড়া: আওয়ামী লীগ করাই কি এখন অপরাধ?

20