নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি বাংলাদেশে বেড়েছে মার্কিন সেনাদের আনাগোনা। ঢাকা, চট্টগ্রাম সবখানেই তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। সেইসঙ্গে দেশে আসছে মার্কিন যুদ্ধবিমানও। এর সঙ্গে মাজারে হামলার ঘটনাও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামবিরোধী নীতি কার্যকরে মার্কিন সেনারা বাংলাদেশে আসছে। আর এ মিশনে ইহুদি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে।
সম্প্রতি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিকে চারটি মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আসাদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ধর্ম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কথিত কটূক্তির অভিযোগ উঠে। গতকাল বুধবার রাতেই মহসিন নামে একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তবে বিক্ষুব্ধরা আজ মাইকে ঘোষণা দিয়ে কফিল উদ্দিন শাহর মাজারের সামনে লোকজন জড়ো করে। পরে এই মাজারসহ পাশের কালাই শাহ, হাওয়ালি শাহ ও আবদু শাহের মাজারে ভাঙচুর করে তারা। একপর্যায়ে সেখানে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকায় 'নুরাল পাগলা' নামে পরিচিত নুরুল হকের কবর ও দরবার শরিফে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে মৃতদেহ তুলে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ ইনসাইটের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে এই অস্থিতিশীলতা পেছনে রয়েছে আমেরিকা। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর আধুনিক কৌশলগত পরিবহন বিমান সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই বিমান সাধারণত জাপানের ইয়োকোটা এয়ারবেস থেকে পরিচালিত হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কখনো জরিপের জন্য, কখনো যৌথ মহড়ার জন্য। কয়েক মাস আগে চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে “অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল-২৫” এবং “টাইগার লাইটনিং-২০২৫” নামে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্রের খবরে জানা গেছে, গত সপ্তাহে একটি ইহুদি মার্কিন সেনা দল চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এই দলটি লালখান বাজার, হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন বড় মাদরাসায় হামলার পরিকল্পনা করছে । এছাড়া, বিভিন্ন মাজারসহ ধর্মীয় স্থানগুলোতেও তারা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই হামলার মাধ্যমে মাজারপন্থী ও কওমীপন্থীদের মধ্যে বিরোধ উস্কে দেওয়া এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্র জানাচ্ছে। এরপর বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলবে। এই অভিযোগের সাথে যুক্ত আরেকটি গুরুতর পরিকল্পনা হলো মার্কিন দূতাবাসে হামলা। এভাবে দেশকে জঙ্গি আস্ত্রণ হিসেবে চিত্রিত করে আমেরিকান সেনারা এখানে ঘাঁটি গেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র অনুসারে, এই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এর সাথে যুক্ত হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এই পরিকল্পনা সফল হলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক চিত্র মোটামুটি বদলে যাবে। এই গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (ওএইচসিএইচআর) মিশন চালু নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই সংস্থাটি বাংলাদেশে এখন কাজও শুরু করেছে। ওই দিকে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সরকার ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ব্যস্ত রেখেছে। কিন্তু এদিকে বাংলাদেশকে খ্রিস্টান রাজ্য বানানোর কাজ চলছে পুরোদমে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সমর্থকরা আজ বাংলাদেশকে যে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জাতীয় কর্তব্য। রাষ্ট্রকে এখনই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে । নয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো অন্ধকারে ডুবে যাবে।
মন্তব্য করুন