নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দেখে কাঁপন ধরেছে দেশবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। তারা যেকোনোভাবে নির্বাচনের সময়সূচি পেছাতে এবং অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
সোমবার ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এক জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে দেখা যায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ৪৮ শতাংশের বেশি ভোটার। এছাড়া, ভোটের পছন্দ জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ১৪.৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর দলের সমর্থকদের মধ্যে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, “এমন পরিস্থিতিতে ভোট হলে তা সহজেই বিতর্কিত হয়ে পড়বে, কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটারই এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।”
মার্কিন যোগাযোগে নেপথ্যের পরিকল্পনা
সম্প্রতি কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর আলোচনায় আসে। এর ধারাবাহিকতায় এবার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গেও এনসিপির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত মাসে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসনের বৈঠকের কথাও জানা যায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েই মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে এই যোগাযোগ চলছে।
এদিকে জামায়াত ইতোমধ্যেই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে।
ইসির নতুন সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক
জামায়াত ও এনসিপির এই উদ্যোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইভিএম-সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল এবং কমিশনের ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ‘না’ ভোট চালু হয়, তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বিধান বাতিল করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছে, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে প্রায় অর্ধেক ভোটারের সিদ্ধান্তহীনতা—এই ফাঁকটাকেই বিরোধীরা কাজে লাগাতে চাইছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত—দুটোই ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।”
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল বলেছেন, এনসিপি যেন নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে। এতে গ্রামের অনেক মানুষ যারা নৌকা মার্কাকে মনে করে বঙ্গবন্ধুর দল তারা ভোট দেবে। এনসিপি জিতে যাবে। তারপর বঙ্গবন্ধুকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারবে।
মন্তব্য করুন