নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশে গণহত্যা চালায়, যার ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ নিহত হয় এবং ২–৪ লক্ষ নারী ধর্ষণের শিকার হন। স্বাধীনতার পরও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি বা দায় স্বীকার করেনি। তবুও ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনরজ্জীবিত করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেইসঙ্গে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতের মতো পাকিস্তানপন্থী দলগুলো।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে কেউ কেউ ভাবছেন, এগুলো ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত গণহত্যার ইস্যু উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
ক্ষমতা আসার পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে পাকিস্তান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা স্বাধীনতাপূর্ব অভিন্ন সম্পদের জন্য বকেয়া অর্থ দাবির মতো বিষয় ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের দিক থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তাতে এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কোনো উল্লেখ নেই।
পাকিস্তান ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে তেমন পাত্তা না দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে করা হচ্ছে এক ধরনের প্রতারণা। সরকার জনগণকে বোঝাতে চাইছে যে তারাও পাকিস্তানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমার ঘোষণা চায়। তবে এই কথা শুনিয়ে তারা এরমধ্যে বেশ কিছু চুক্তি পাকিস্তানের সঙ্গে করে ফেলেছে। এরমধ্যে রয়েছে— দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা মওকুফ। অনুমোদিত চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা একে অপরের দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ ও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন।
বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গঠন। সাংস্কৃতিক বিনিময়: দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা। ফরেন সার্ভিস একাডেমি সহযোগিতা: দুই দেশের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার সহযোগিতা: দুই দেশের সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি। গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগিতা: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) মধ্যে সহযোগিতা।
এছাড়া পাকিস্তানেকে বিভিন্ন সহায়তাও করছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩০০টি সম্পূর্ণ বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য চারগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানের বাণিজ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চামড়া, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে পাকিস্তানের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর পরিকল্পনা চলছে।
বাংলাদেশে এবং প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংগঠনগুলো পাকিস্তানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো দায় স্বীকার করেনি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়াও এখনো অসম্পূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণহত্যার স্বীকৃতি ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবির সমাধান ছাড়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণ কঠিন। ইউনূস সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো এই ইতিহাসি ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যার জন্য ক্ষমা না চাইলেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আর এ জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন মন্ত্রীরা ঘন ঘন বাংলাদেশ সফর করছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ১৩ বছর বাংলাদেশ সফর করছেন পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সূত্র বলছে, ভারতকে অস্থিতিশীল করা ও বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের মিশনের অংশ হিসেবে ঢাকায় এসেছেন ইসহাক। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাকিস্তানের জন্য ভারতকে অস্থিতিশীল করা সহজ হয়। যার প্রমাণ ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান আটক করা হয় ২০০৪ সালের পহেলা এপ্রিল রাতে। দুটি বড় ট্রলারে করে এসব অস্ত্র সমুদ্রপথে আনা হয় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার বা সিইউএফএল জেটিতে। পর্যবেক্ষকদের অনেকই মনে করেন, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের সেই ঘটনা ভারতের সাথে তৎকালীন বিএনপি সরকারের মধ্যে শীতল সম্পর্কের সূচনা করেছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের সফরের আগে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের যুদ্ধাপরাধ অস্বীকার করছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতারাও বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশকে পাকিস্তান বলে উল্লেখ করছেন এবং শিবির পাকিস্তানে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাসে তারা যুদ্ধাপরাধীদের আড়াল করে প্রদর্শনী করায় সমালোচনা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এসব উসকানিমূলক মন্তব্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিটা কার্যত প্রহসনে পরিণত হচ্ছে।
সম্প্রতি জামায়াতকে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিদায়ী পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের হঠাৎ প্রস্থান এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারিও আলোচনায় এসেছে। সামগ্রিকভাবে পাকিস্তান, জামায়াত ও শিবির আবারও বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, আর সরকারের নীরব অবস্থান তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আবারও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চলছে—এমন তথ্য সামনে আসছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ, বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামাবাদের রাজনৈতিক-গোয়েন্দা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
পাকিস্তানি মন্ত্রীদের ঘনঘন ঢাকা সফর
সূত্র বলছে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের দুই মন্ত্রী। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ২১ আগস্ট চার দিনের সফরে ঢাকায় আসবেন। আর দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন ২৩ আগস্ট।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয় পাকিস্তান। গত মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তিনি জানা, সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এ নিয়ে সমালোচনাও হয় ব্যাপক।
অনেকেই বলেন, যেখানে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী বিভিন্ন সংগঠন বেশ সক্রিয় তারা কীভাবে আরেক দেশের সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে? এর আগে দুই দেশের বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে গত এপ্রিলে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ। এত গেল কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের আক্রমণাত্মক বার্তা
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাচলাইন–এর এক কলামে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে লেখা হয়েছে, “এখন সময় এসেছে পূর্ব পাকিস্তানকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।”
লেখক সরাসরি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমিকে আবারও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা উচিত। এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে—পাকিস্তানের একাংশ বাংলাদেশকে এখনো একটি হারানো ভূখণ্ড হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের রহস্যজনক বাংলাদেশ সফর
গত জুনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন ব্রিগেডিয়ার ঢাকা সফরে আসেন এবং সরাসরি কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসে যান, যেখানে ১০ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর অবস্থিত। সাবেক এক বাংলাদেশি মেজর জেনারেল বলেন, “তারা নিঃসন্দেহে গুপ্ত মিশনে ছিলেন, না হলে হঠাৎ রামুর মতো সংবেদনশীল ঘাঁটি সফরের কারণ কী?”
রামু সেনানিবাস বর্তমানে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। ফলে এ সফরকে অনেকেই স্বাভাবিক কূটনৈতিক ভ্রমণের বাইরে এক ধরণের গোপন সামরিক নকশা হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে হঠাৎ করে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রবণতা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া এ ধরনের চুক্তি বা কূটনৈতিক বিনিময় আসলে ইতিহাসকে উপেক্ষা করার শামিল। এতে একদিকে শহীদদের আত্মত্যাগ অসম্মানিত হয়, অন্যদিকে পাকিস্তানও দায়মুক্তি পেয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ইউনূস সরকার জনসাধারণের কাছে দেখাতে চাইছে যে তারা পাকিস্তানের কাছ থেকে ক্ষমা আদায়ে দৃঢ় অবস্থানে আছে। কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তানের বক্তব্য বা নথিপত্রে ক্ষমা প্রার্থনার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং এ সময়ে ভিসা চুক্তি, বাণিজ্য সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। এতে পাকিস্তান লাভবান হলেও বাংলাদেশ তার মূল ঐতিহাসিক ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি পাচ্ছে না।
এ অবস্থায় অনেকের ধারণা, সরকার এক ধরনের “ডাবল গেম” খেলছে—বাইরে জনগণকে দেখাচ্ছে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর অবস্থান, আর ভেতরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। এর ফলে গণহত্যার দায় মুছে দিয়ে পাকিস্তানকে দায়মুক্ত করার পথই প্রশস্ত হচ্ছে।
জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। একাত্তরের গণহত্যা শুধু অতীতের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
মন্তব্য করুন