নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গণঅধিকার পরিষদের সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জাপা কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের একটি সমাবেশ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাতে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়। এ সময় যৌথবাহিনী নুরুল হক নূরের ওপর ভয়াবহ হামলা চালায়। শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলার পেছনে পিনাকী ইলিয়াস ও ইউনূসের নির্দেশ ছিল। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা। এর মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, মাথায় আঘাত লাগায় নুরুল হক নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সূত্র বলছে, ইউনূসের নির্দেশ নুরকে বেধড়ক পিটিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর ( আইএসপিআর) জানায়, কিছু নেতাকর্মী সংগঠিতভাবে মব ভায়োলেন্স চালান। তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, মশাল মিছিল ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে সহিংসতা বাড়িয়ে তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে সংঘর্ষ তীব্র হলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। ঘটনাস্থলে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন আহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সরকারই তাদের দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। এর আগের দিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আলোচনা অনুষ্ঠানে হট্টগোলের মধ্যে ‘মব হামলার’ শিকার হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এখানে মব হলেও সেনাবাহিনীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এর আগে গোপালগঞ্জে যখন সাধারণ জনতা যখন এনসিপির নেতাদের অবরুদ্ধ করে তখনও সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। এতে সাতজন নিহত হন।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ভিপি নুরুল হক নূরের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তবে তার এই পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর মন্তব্য করে আসিফ নজরুলের প্রতিবাদকে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
হাসনাত তার মন্তব্যে লিখেছেন, 'প্রতিবাদের কাজ আপনার? ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার। যেই জন্য বসানো হইছে সেটা না করে কী কী করছেন এসবের হিসাব দিতে হবে। কে কোথায় কিভাবে কোন কাজে বাধা দিছে এসব খবর আমাদের কাছে আছে। এসব প্রতিবাদের ভং না ধরে কাজটা করেন।'
বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাতরা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পেরে আসিফ নজরুলকে হুমকি দিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতেই গতকালের এ হামলা চালানো হয়েছে। যাতে তাদেরকে বাদ দিয়ে জামাতের মতো দেশবিরোধী দলকে সহজেই মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে জায়গা করে দেওয়া যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
মন্তব্য করুন